• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের মামলা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট৮:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০১৮

নিজের চেম্বারে নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কর্মরত চর্ম ও যৌন বিভাগের চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা বাদী হয়ে সোমবার শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলা নম্বর- ২১। মঙ্গলবার  ঢাকার সিএমএম আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর মেয়েটিকে তার বাবা-মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই রিপন কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, অভিযুক্ত ডা. রিয়াদ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরী ওই ছাত্রীর বাড়ি ভোলা জেলায়। সে চর্মরোগে আক্রান্ত ছিল। গত বছরের ৬ অক্টোবর ভোলার যমুনা মেডিকেল সার্ভিসেসে ডাক্তার রিয়াদ সিদ্দিকীর কাছে ওই ছাত্রী তার চর্মরোগের সমস্যা নিয়ে পরামর্শ নিতে যায়। বিএসএমএমইউর ডাক্তার হলেও রিয়াদ সিদ্দিকী প্রতি শুক্রবার ভোলায় রোগী দেখতেন। ডাক্তার রিয়াদ প্রথম সাক্ষাতের সময় ওই কিশোরীকে বিবস্ত্র করে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে মলম লাগিয়ে দেন। এ বিষয়ে কিশোরী প্রতিবাদ করলে ডাক্তার রিয়াদ বলেন,  ‘আমি তোমার ডাক্তার। আমার কাজ এগুলা করা, আমি এগুলো করব।’ এ বলে ওই চিকিৎসক ছাত্রীর সব স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন এবং কাউকে কিছু বলতে বারণ করেন। এরপর ছাত্রী লজ্জায় কাউকে কিছু বলেনি।

এরপর গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ওই ছাত্রী পুনরায় চিকিৎসা করাতে ডাক্তার রিয়াদের কাছে যায়। ওই দিন ডাক্তার রিয়াদ আবার জোর করে বিবস্ত্র করেন এবং যৌন কাজে লিপ্ত হন। ওই ছাত্রী তখন চিৎকার করলে ডাক্তার ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলেন। ছাত্রীকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ডাক্তার রিয়াদ ওই ছাত্রীর কিছু গোপনীয় ছবি তুলেন এবং তা ইন্টারনেটে তুলে দেওয়ার হুমকি দেন। সেই সঙ্গে ছাত্রীকে নিয়মিত তার কাছে আসতে বলেন।

এরপর ডাক্তার বিভিন্ন সময়ে ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ফোন করে জানান, আপনার মেয়ের মরণব্যাধি রোগ হয়েছে। তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হবে। এ ছাড়া ডাক্তার রিয়াদ সিদ্দিকী ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে তাদের মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ফোন দিয়ে ডাক্তার রিয়াদ বলেন, আপনার মেয়ের চিকিৎসার জন্য বোর্ড বসানো হবে। পরের দিন ৩১ ডিসেম্বর মেয়েকে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হন। তখন পরিবারের লোকজনদের অপেক্ষা করতে বলে ওই ডাক্তার মেয়েটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকের চতুর্থ তলার নিজ চেম্বারে নিয়ে ধর্ষণ করতে গেলে ওই ছাত্রী কান্নাকাটি ও চিৎকার করে। এ সময় ওই ডাক্তার তাকে ওপর থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং আবারও তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

শাহবাগ থানার পুলিশ জানায়, ঘটনার শিকার তরুণীর বাড়ি ভোলায়। সেখানে ডা. রিয়াদ সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত চেম্বার রয়েছে। চিকিৎসার জন্য ওই তরুণী তার চেম্বারে গেলে বিভিন্ন সময়ে  ডা. রিয়াদ তাকে ধর্ষণ করেন।

পুলিশ আরও  জানায়, গত সপ্তাহে ওই তরুণী নিজের চিকিৎসা করাতে ঢাকায় আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যান। ডা. রিয়াদ সেখানকার চার তলায় নিজের চেম্বারে নিয়ে ওই তরুণীকে আবারও ধর্ষণ করেন। এরপর তরুণীকে গত ৪ জানুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি তার চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর তিনি বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

লাইভ

টপ