• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

এসিডে ঝলসে গেছে বরিশালের মাহফুজার শরীর

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০১৬

বরিশাল: লোক ভাড়া করে স্ত্রীকে এসিডে ঝলসে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুরুজ আলম খানের (৩৫) বিরুদ্ধে। ঝলসে যাওয়া স্ত্রী মাহফুজা আক্তার সুবর্ণাকে (২৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর রূপনগর থানার ৪৫০/সি/১ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

 

মাহফুজা তার তৃতীয় স্ত্রী। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার মুখমণ্ডলের বাম পাশ থেকে শুরু করে শরীরের বাম পাশ হয়ে বাম হাত ও পায়ের বেশকিছু অংশ পুড়ে গেছে। শরীরের ১১ ভাগ পুড়েছে এবং অবস্থা ঝুঁকিমুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে মাহফুজার মেয়ে সানজিদা সুলতানা রিমা (৯), সুরুজের দ্বিতীয় স্ত্রী নিলুফা বেগম (৩২) নিজেও সামান্য দগ্ধ হয়েছেন। তিন স্ত্রীকে নিয়ে নিজের ওই বাড়িতে থাকতেন মিল্কভিটার কর্মচারী সুরুজ।

 

তার বাড়ি বরিশাল জেলার কোতোয়ালি থানার সিংহেরকাঠি গ্রামে। এসিড দগ্ধ মাহফুজা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে পাঁচ-ছ’মাস ধরে মনোমালিন্য চলছিল। গতকাল ভোরে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করতে করতে তিনি ঘরের বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর দরজায় এসে টোকা দেন। আমার বাপের বাড়ি থেকে মেহমান এসেছে এবং তাদের চিনি কিনা জানতে চেয়ে দরজা ঠেলে ঘরের ভেতরে ঢুকেন। তার পেছনে আরও দু’জন। একজনের হাতে একটি মিষ্টির প্যাকেট। অন্যজন মুখোশ পরা। আমি এগিয়ে গেলে কিছু বুঝে উঠার আগেই মুখোশ পরা লোকটি আমাকে লক্ষ্য করে এসিড ছুড়ে মারে। এরপর ওই দু’জন পালিয়ে যায়। আমার স্বামী তাদের ধরার কোনো চেষ্টা না করেই ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

 

তিনিই লোক ভাড়া করে আমাকে এসিডে ঝলছে দিয়েছেন। এসিড নিক্ষেপের পর উপস্থিত লোকজন আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে বললে আমার স্বামী তাতে আগ্রহ দেখাননি। বলেন, মেডিকেলে নেয়ার জন্য তার কাছে টাকা নেই। দগ্ধ হওয়ার পর তাকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। দুপুরে ওই ইনস্টিটিউটের ডিএইচইউতে সরিয়ে নেয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। বাকি তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঢামেক হাসপাতাল থেকে সুরুজকে আটক করে। জানা যায়, তার তিন স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন সুরুজ। তার তিন স্ত্রীর ঘরে তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বড় স্ত্রী লিলি আক্তারসহ অপর দুই স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে একান্নবর্তী পরিবারে তারা থাকতেন। সুরুজের দ্বিতীয় স্ত্রী নিলুফা বেগম বলেন, আমার স্বামীর তিন স্ত্রী। আমার বিয়ের পর মাহফুজাকে গত প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে করেন। তবে আমরা সবাই একই জায়গায় একই বাড়িতে থাকি। এক চুলায় রান্না।

 

 

সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে চিৎকার শুনি। তারপর গিয়ে দেখি ছোট সতীন এসিড দগ্ধ হয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। এরপর তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। রূপনগর থানার উপ-পরিদর্শক খোকন বাউয়ালী বলেন, ঘটনা জানার পর দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে ছুটে যাই। অভিযুক্ত স্বামী সুরুজকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। অন্যলোক ভাড়া করে কৌশলে সুরুজ তাকে এসিডে ঝলসে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দগ্ধ ছোট স্ত্রী মাজফুজা। তিনটি স্ত্রী থাকার কারণে সৃষ্ট নানা পারিবারিক অশান্তি থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’

লাইভ

টপ