• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

রাষ্ট্রবিরোধী চক্র জামায়াত রাস্তায়!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১২:১৩ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০১৬

বরিশাল: মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে বরিশালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রবিরোধী চক্র জামায়াত-শিবির। গত বৃহস্পতিবার সংগঠনটির শীর্ষ এই নেতার ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই কেন্দ্র হরতাল কর্মসূচির আহবান করায় এখানকার নেতাকর্মীরা তাদের অবস্থান জানান দিয়ে যাচ্ছেন।

পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত জনসম্মুখে বিক্ষোভ মিছিল করে বড় ধরণের শোডাউন দিচ্ছে। অথচ রায় ঘোষণার আগ থেকেই যে কোন ধরণের নাশকতা রোধে বরিশাল পুলিশ প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছিলো। এমনকি মাঠে রাষ্ট্রবিরোধী এ চক্রটিকে রুখতে পুলিশের কঠোর ভুমিকা সিদ্ধান্তের বিষয়টিও অবহিত করা হয়েছিলো।

কিন্তু সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সভা-সমাবেশ করায় পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় পুলিশের এহেন ভুমিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্বাধীনতার স্বপেক্ষ শক্তি অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধারা।

এক্ষেত্রে তাদের ভাষ্য হচ্ছে, বরিশাল পুলিশ রাষ্ট্রবিরোধী চক্র জামায়াত-শিবিরের বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্সে থাকার ঘোষণা দিলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয়। তাই রোববার ওই চক্রটির হরতাল কর্মসূচি নিয়ে এক ধরণের অজানা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তারা। কারণ রাজাকার নিজামীর রায় ঘোষণার পর বেশ কয়েকবার ওই চক্রটি রাস্তায় নেমেছিলো।

বিশেষ করে রাজপথে সভা-সমাবেশ করে হুংকার ছেড়ে তাদের শক্তপোক্ত অবস্থানের বিষয়টি জানান দিয়েছে। ফলে বরিশালবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল।

সর্বশেষ শনিবার এই চক্রটি জনবহুল এলাকা নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে শোডাউন দিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রোববারের হরতালের সমর্থনে বের করা বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্বে দিয়েছে মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. আবু নাহিয়ান এবং শিবির মহানগর সভাপতি ছাত্রনেতা মো. ইমাম হোসেন।

শোডাউন শেষে তারা একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে সরকারের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চরণ করে বলছে, তাদের নেতা নিজামীকে মুক্তি দিতে। নতুবা রোববারের হরতালে পাল্টে দেবে বরিশাল প্রেক্ষাপট।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য হচ্ছে, এসব বিষায়াদী সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলেও তারা তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যায়নি। কিন্তু যে সময় ঘটনাস্থলে গিয়েছে তার আগেই সভা-সমাবেশ করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা সটকে পরে। ফলে ঘটনাটি চোর-পুলিশের নাটকের ন্যায় মনে হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।’

কিন্তু যদিও পুলিশ বলছে, রোববারের হরতালকে কেন্দ্র করে বরিশাল মেট্রোপলিটন আওয়াতাধীন চারটি থানা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া নগরীর অধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই সাথে জেলার সকল উপজেলায়ও নিরাপত্তা জোরদারের বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।’

সুতরাং জামায়াতের রোববারের হরতালকে কেন্দ্র করে উৎকণ্ঠিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছে বরিশাল পুলিশের উচ্চমহল।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মূখপাত্র সহকারি কমিশনার (এসি) আবু সাঈদ জানিয়েছেন, রোববারের রহতালকে কেন্দ্র করে নগরীতে ১০০০ হাজার পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই সাথে মাঠে থাকছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক টিম।

তাছাড়া মহল্লা বিশেষ টহল দেবে র‌্যাব এবং আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের একাধিক দল। সঙ্গত কারণে ভয়েও মাঠে রাষ্ট্রবিরোধী চক্র জামায়াত-শিবির মানবে না বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।’

লাইভ

 

টপ