• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

রাজনৈতিক সামাবেশ দেখাতে বিদ্যালয়ের প্রাচীর অপসারণ!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১২:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৭

মাত্র কিছু দিন হয় বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদরে গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাচীর নির্মাণ করেছে বরিশাল জেলা পরিষদ। প্রাচীরের কারণে স্কুলে মাঠে রাজনৈতিক সভা সমাবেশ করলে দেখা যায় না অজুহাতে হঠাৎ করে দেয়াল ভাঙা শুরু করেছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

প্রাচীর ভাঙায় সরকারি অর্থের অপচয়সহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পড়াশোনার ব্যহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

বরিশাল জেলা পরিষদ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলা সদরে গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে মাঠ ঘেষে চলে গেছে বরিশাল গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক। তাছাড়া রাস্তার দক্ষিণ পাশে রয়েছে বাণিজ্যিক কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, আঞ্চলিক সড়কে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করায় এবং মার্কেটে বিপনি কেন্দ্র থাকায় বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের অভাবে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়।

পূর্বের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি পড়াশোনা ব্যহত হওয়ার বিষয়টি বরিশাল- ১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে অবহিত করলে সাংসদ প্রাচীর নির্মাণের জন্য বরিশাল জেলা পরিষদকে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন। জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রাচীর নির্মাণ করেন।

বরিশাল জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হোসেন জানান, ২০১৫-২০১৬ইং অর্থ বছরে গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আঞ্চলিক সড়কের পাশে পূর্ব গেট থেকে পশ্চিম পাশের গেট পর্যন্ত ৩শত ৫০ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট খাড়া একটি প্রাচীর নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি নির্মাণে ব্যায় হয় দশ লক্ষ টাকা।

২০১৬ সালে ডিসেম্বর মাসে প্রাচীর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনার নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে দিতেই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাচীর থাকায় রাজনৈতিক সভা সমাবেশ দেখা যায় না এই অজুহাতে প্রাচীর ভাঙা হলে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা মাাত্মকভাবে ব্যহত হবে।

শুধু তাই নয় স্কুলের অতি নিকট দিয়ে বরিশাল- গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক থাকায় যানবাহনের চলাচল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কোলাহল ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনার মনোনিবেশ থাকবে না। ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. আলাউদ্দিন ভূইয়া বলেন, রাজনৈতিক সভা সমাবেশ প্রদর্শনের জন্য প্রাচীর ভাঙতে হবে এ সিদ্বান্ত সঠিক নয়। প্রাচীর ভাঙায় বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী যানবাহন শব্দ ও বিপনী কেন্দ্রের কোলাহল পড়াশোনায় ছাত্র ছাত্রীরা মনোনিবেশ হারাবে।মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ হতেই পারে তা সড়ক থেকে দেখতে হবে এটা খোড়া যুক্তি।

কমিটির সদস্য মো. খোকন সরদার বরিশালটাইমসকে বলেন, মাঠের এ পাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত উঁচু করে প্রাচীর নির্মাণ করায় গুদাম ঘরের মত দেখায়। তাই রাজনৈতিক সভা সমাবেশ সড়ক থেকে দেখা যায় না। সেই কারণে সভাপতি প্রাচীর ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রাচীর ভাঙা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. অলি উল্লাহ বরিশালটাইমসকে বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি যা করছেন বিদ্যালয়ের ভালর জন্যই করছেন। এর বেশী কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, পৌর যুবলীগের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর মো. আতিকুর রহমান বরিশালটাইমসকে বলেন, উঁচু প্রাচীর থাকায় বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক সভা সমাবেশ সড়ক থেকে দেখা যায় না। তাই প্রাচীর ভেঙে এসএস দিয়ে বেষ্টুনী তৈরী করা হবে। তাহলে সভা সমাবেশ দেখাও যাবে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাও ঠিক থাকবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সেলিম মিয়া বরিশালটাইমসকে বলেন, প্রচাীর ভাঙা যুক্তিযুক্ত নয়, এতে লেখাপড়া বিঘ্নিত হবে।”

লাইভ

টপ