• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

মেয়র কামালে ক্ষুব্ধ হাইকমান্ড, টিকিট পেতে চাঁন শিরিনের দৌড়

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট২:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৭

গতবারের সিটি নির্বাচনে অনেক জল ঘোলার পর মনোনয়ন পেয়েছিলেন বরিশালের মেয়র আহসান হাবিব কামাল। কিন্তু এবার ততটা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন দৌড়ে তার জন্য হুমকি হতে পারেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলার সভাপতি এবাদুল হক চান।

তবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্যমতে, গত নির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়ন বাছাইয়ে তালিকার ওপরের দিকেই থাকবেন।

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত ইঙ্গিত পাওয়া না গেলেও আগামী ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি- এটা এক রকম নিশ্চিত। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে তাই রাজনীতির মাঠের আলোচনায় জোর হাওয়া লাগতে শুরু করেছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ছয় সিটি নির্বাচন বিএনপির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলাফল অনেক কিছুর ইঙ্গিত দেবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। এ লক্ষ্যে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থী আগাম নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন।

বরিশালে বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালসহ আরও কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর কথা শোনা যাচ্ছে দলীয় ও কর্মী মহলে। তাদের ভাষ্যমতে, এবার প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা বেশি দেখছেন তারা। বিএনপির বেশ কজন নেতা আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে চান।

বিলকিস জাহান শিরিন ও বরিশাল দক্ষিণ জেলার সভাপতি এবাদুল হক চান ছাড়াও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার ও সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ, মহানগর যুবদলের সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীমও মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনা কামাল, চান ও শিরিনকে নিয়েই।

২০১৩ সালের ১৫ জুন একযোগে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট হয়। একই বছরের ৬ জুলাই হয় গাজীপুর সিটির নির্বাচন। ওই নির্বাচনে সবগুলোতে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে চেয়ারপারসনের নেতৃত্বে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

কারা মনোনয়ন পাবে- এমন প্রশ্নে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সরকারের সঙ্গে আঁতাত করেননি, এমন প্রার্থীরাই মনোনয়ন পাবেন।’

দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য মেয়ররা দলের আন্দোলন কর্মসূচিতে সাধ্যমতো সক্রিয় থাকলেও আহসান হাবিব কামাল ছিলেন ব্যতিক্রম। বিগত আন্দোলনের সময় তিনি গা বাঁচিয়ে চলেছেন বলে দলের ভেতর তার সমালোচনা আছে। আর গত কয়েক বছরে বিএনপিপন্থী চার মেয়র একাধিকবার জেল খাটলেও মেয়র কামাল দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন নির্বিঘ্নেই।

বিএনপি কিংবা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে চলার অভিযোগও আছে মেয়র কামালের বিরুদ্ধে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীসহ দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাকে দেখা যেত না। এসব বিষয় আমলে নিয়ে গত বছর গঠিত বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি।

বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী সিটি নির্বাচনে কর্মীবান্ধব কাউকে প্রার্থী করলে ফলাফল ভালো হবে। কারণ বর্তমান মেয়র কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখন না এটা স্পষ্ট। আমরাও সেই রকম প্রার্থী চাই, যিনি সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন।’

মহানগর যুবদলের সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বরিশালে বিএনপির ঘাঁটি। এখানে দল যাকে মনোনয়ন দেবে সেই নির্বাচিত হবে। তবে মাঠের খোঁজখবর নিয়ে দল মেয়র পদে মনোনয়ন দেবে এটাই আমাদের দাবি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর বিএনপির এক নেতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপির ভোট আছে এটা ঠিক। কিন্তু সুবিধাবাদী মেয়রকে আবার মনোনয়ন দিলে তা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। আশা করি কেন্দ্র এটা বুঝেই সিদ্ধান্ত নেবে।’

এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে এখনো কোনো নারী প্রার্থী হননি। সে কারণে এবার বিলকিস জাহান শিরিন মনোনয়ন পেতে আগ্রহী বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। তিনি নিজেও তার আগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন।

শিরিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমানে কেন্দ্রীয় পদে থাকলেও আমার রাজনীতির গোড়াপত্তন বরিশাল থেকে। বরিশালের আলো-বাতাসে বড় হয়েছি। আর এখনো কোনো নারী মেয়র পদে প্রার্থী হননি এখানে। তাই নেতাকর্মীরা যদি চান এবং দল থেকে মনোনয়ন পাই তাহলে আমি নির্বাচন করতে আগ্রহী।’

বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবাদুল হক চান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এর আগে দুবার নির্বাচন করেছিলাম। গত নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তে বর্তমান মেয়রের পক্ষে কাজ করেছি। সামনে নির্বাচনে তো অবশ্যই প্রার্থী হতে চাই। তারপরও সিদ্ধান্ত দল থেকে আসবে। তবে এখন পর‌্যন্ত নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দল থেকে পাইনি।’

এদিকে আবার নির্বাচন করার কথা জানিয়ে বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগ্রহ তো অবশ্যই আছে। কিন্তু দলের দিকে না তাকিয়ে থাকা ছাড়া তো উপায় নেই। দেখি, সময় আসুক। আর আগ্রহ তো প্রকাশ করতেই পারে যে কেউ। দল চিন্তা করবে কাকে দেবে।’

দলে সক্রিয় না থাকা, নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলার অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে কামাল বলেন, ‘মেয়রের দায়িত্ব অনেক। দিনের মধ্যে ১৬ ঘণ্টা খাটতে হয়। আর আমি তো সবার মেয়র। এখন যদি মেয়রের দায়িত্ব পালন না করতে পারি তাহলে মেয়র হয়ে লাভ কী?’

সিটি নির্বাচনে প্রার্থিতার ব্যাপারে গত নির্বাচনের প্রার্থীরা তালিকার ওপরের দিকে থাকবেন বলে ইঙ্গিত মেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কথায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনো কয়েক মাস বাকি। গত নির্বাচনে মেয়র পদে যারা জয়ী হয়েছেন, স্বাভাবিকভাবেই তারা আগামী নির্বাচনেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে পারেন। অবশ্য দলীয়ভাবে এখনো প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি।’’

লাইভ

টপ