• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

ভরা মৌসুমেও বরিশালের নদীগুলোতে ইলিশের আকাল

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১০:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৭

এখন সময়টা ইলিশের জন্য ভরা মৌসুম হলেও বরিশাল তথা গোটা দখিন উপকূলীয় এলাকা নদীগুলোতে জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। এ কারণে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে পরিবার গুলোতে বিরাজ করছে হতাশা। কিন্ত ভরা মৌসুমের শুরুতে সাগরে ইলিশের দেখা না মিললেও গত দু’সপ্তাহ ধরে সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর রুপালি ইলিশ। কিন্তু এর ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় এলাকা পিরোজপুরের নদনদীতে কাঙ্খিত ইলিশের দেখা পাচ্ছে না জেলেরা।

ইলিশ ধরা না পড়ায় অভাব-অনটনের মধ্যে ধারদেনা করে চলছে তাদের সংসার। এখানকার শত শত জেলে রয়েছে যারা এই মৌসুমে ঝড়, বন্যা আর জলদস্যুদের ভয়ে সাগরে না গিয়ে স্থানীয় নদ নদীতে মাছ শিকার করে থাকেন। জেলার ইন্দুরকানী, ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়া উপজেলার শত শত জেলে এ অঞ্চলের বড় নদী কঁচায় সারা বছর মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

একই ধারাবাহিকতা বিরাজ করছে জেলার নাজিরপরের কালিগঙ্গা, কাউখালী ও নেছারাবাদের সন্ধ্যা এবং কঁচার সংযোগ পান গুছি নদীতেও। রাত দিন জাল ফেলে দু’একটা ইলিশ ধরা পড়ছে জালে। যা বিক্রি করে সংসার চালানো অনেক কষ্ট হচ্ছে জেলে পরিবারগুলোর। এ অবস্থায় বর্তমানে জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

বছরের জুন মাসের শুরু থেকেই জেলেদের জালে ধরা দেয় রূপালি ইলিশ। কাঙ্খিত ইলিশের দেখা পেয়ে হাসিতে ভরে ওঠে জেলেদের মুখ। মাছ বিক্রি করে সারা বছরের ধারদেনা শোধ করতে থাকেন দরিদ্র জেলেরা। এই সময়টায় এসব নদনদী থেকে আহরিত তাজা ইলিশ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ চলে যেত দেশের বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া এ সময় স্থানীয় হাট বাজার গুলোও থাকে ইলিশের জন্য সরগরম। কিন্তু সে চিত্রে এখন ভাটা পড়েছে। দলে দলে নদীতে ইলিশ শিকারের আশায় জেলেরা জাল ফেললেও কারো জালে দু’একটা ইলিশ ধরা পড়ছে আবার কেউবা ফিরে আসছেন খালি হাতে।

স্থানীয় নদনদীতে ইলিশের আকাল পড়ায় জেলেদের দাদন দিয়ে এখন বেকায়দায় পড়েছেন আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরাও। মাছ ধরা না পড়ায় জেলেরা মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। এরপর রয়েছে অধিকাংশ জেলের ঘাড়ে এনজিওর ঋণের বোঝা। অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল কিনে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু সারাদিন জাল ফেলেও মাছ না পাওয়ায় তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ঠিকমত এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না।

এছাড়া অন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন এ পেশার সাথে জড়িত জেলার কয়েক হাজার জেলে। কঁচা নদীর টগড়া ও চরখালী ফেরিঘাটে অনেক খুচরা মাছ বিক্রেতারা এ নদীর তাজা ইলিশ বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু ভরা মৌসুমে এসব নদনদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় হতাশ অনেক জেলেকে দাদন দেয়া আড়ৎদার মামুন মাঝি। দাম ভাল থাকলেও নদীতে মাছ কম। তাই সাগরের বরফ দেয়া ইলিশই এখন বেচা বিক্রি বেশি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শুক্রবার সকালে কথা হয় কঁচা নদীতে মাছ শিকার করতে যাওয়া চরবলেশ্বর গ্রামের শাহজাহান ফরাজী, ফারুক সরদার ও আজিজুলের সাথে। তারা বলেন, সাগরে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এখান থেকে সাগরের দুরুত্ব ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার হবে। সাগরের সাথে কঁচা নদীর সংযোগ রয়েছে। সে হিসেবে এ নদীতেও ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ধরা পড়ার কথা।

এক সময় এ নদীটি ইলিশের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এ নদীটি ইলিশের জন্য তার সতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে। পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে স্থানীয় নদনদীর কোনো ইলিশের দেখা নেই। শুধু সাগরের ইলিশে সরগরম এখন এ মৎস্য বন্দরে। এমনটাই জানালেন ওখানকার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নাসির মল্লিক।’’

লাইভ

টপ