বিদ্যালয় নাকি কারাগার!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট ১:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০১৬

সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার তাগিদে বাবা-মা তাদের বিদ্যালয়ে পাঠান। কিন্তু এ কেমন বিদ্যালয় যেখানে সন্তানদের একবার দিয়ে আসলে দ্বিতীয়বার প্রিয় সন্তানটির মুখ পর্যন্ত দেখা যায় না। শুনতে অবাক লাগলেও এমন একটি বিদ্যালয় নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক একটি মিডিয়া। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক বিদ্যালয় আখ্যা দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয় এটি পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগালের এমন একটি বিদ্যালয় যেখানে বিদ্যালয়ের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নির্মম ভয়ার্ত কিছু জীবনের গল্প।

বাইরে থেকে সবার কাছে বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত পেলেও এর ভেতরের চিত্রটা এতটাই ভয়ার্ত যা শুনলে যে কেউ আঁতকে উঠবে। তাহলে ঘটনাটা এভাবে শুরু করা যাক। একজন ছাত্রকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের বেত্রাঘাত করছে। ছাত্রটির অপরাধ হলো সে তার পরিচালককে এ সপ্তাহে যথেষ্ট টাকা উপার্জন করে দিতে পারেনি। আর একটু এগিয়ে গেলে দেখতে পাওয়া যায়, একটি ছাত্র শেকল পরিহিত অবস্থায় বসে আছে। এই বিদ্যালয়ের এক একটি কক্ষ একটি কারাগারের মতো দেখতে। প্রতিটি ছাত্রকে এখানে এমন অবস্থায় রাখা হয়েছে যাদের দেখতে করাবন্দীর চেয়ে কোনো অংশে কম মনে হবে না।

এটাকে সবাই বিদ্যালয় বলে জানলেও আপতদৃষ্টিতে একে বিদ্যালয় বলা যাবে না। এখানে ছাত্রদের ধর্মীয় শিক্ষার নাম করে ঢোকানো হলেও তাদের দিয়ে করানো হয় অপরাধ জগতের সবধরণের কর্মকাণ্ড। আর কেউ এসব কাজ করতে ব্যর্থ হলে আছে ভয়ানক শাস্তির বিধান। এখানে শিক্ষা নিতে আসা বেশিরভাগ ছাত্রের বয়স পাঁচ থেকে পনের বছরের মধ্যে। শিক্ষার নাম করে তাদের ঢোকানো হলেও মূলত তাদের ক্রীতদাস বানিয়ে রাখা হয়। যার সন্তান একবার এখানে প্রবেশ করে দ্বিতীয়বার তার মুখ দেখা দুঃসাধ্য হয়ে যায় বাবা-মায়ের।

তবে শুরুর দিকে বিদ্যালয়টি মোটেও এরকম ছিল না। যতই দিন যাচ্ছে বিদ্যালয়টিতে দুর্নীতি বেড়েই চলেছে। এখানে এমন অনেক ছাত্র আছে যাদের দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। যদি কোন ছাত্র প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ডলার উপার্জন করে না নিয়ে আসতে পারে তাহলে সেক্ষেত্রেও রয়েছে ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা। এখানেই শেষ নয়, সারাদিনের কার্যক্রম শেষ করে ছাত্ররা যখন বিদ্যালয়টিতে ফেরে তখনও নেই একটু স্বস্তি। রাতেই তাদের বসে যেতে হয় কোরান নিয়ে। রাত জেগে তাদের মুখস্থ করতে হয় কোরানের এক একটি আয়াত। আর কেউ যদি তা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে প্রহার চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত।

তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, বাবা-মা শিক্ষকদের এই কৌশল একটুও ধরতে পারে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গ্রামে গ্রামে যেয়ে ছাত্র জোগাড় করে নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে সে সকল ছাত্রদের বাবা-মাকে আস্বস্ত করেন যে তাদের সন্তানটিকে কোরান শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার বিনিময়ে পাবে থাকা খাওয়ার সবরকম ব্যবস্থা। আর সেই হতভাগা ছাত্রদের পরিবারের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, সন্তান দুবেলা খেতে পারবে একথা শুনলেই তারা তাদের সন্তানকে দিয়ে দিতে রাজি হয়ে যান। তবে যারাই তাদের সন্তান দিয়েছেন তারাই আর দ্বিতীয়বারের মতো দেখতে পায়নি সন্তানের প্রিয় মুখ।

এই বিদ্যালয়টিতে তিন হাজারের মতো ছাত্র আছে। স্থানীয়দের কাছে তাদের কার্যক্রম স্পষ্ট হলেও এদের উচ্ছেদ করা এতটা সহজ নয়। এই বিদ্যালয়টির পেছনে রয়েছে এলাকার প্রভাবশালীদের হাত। অনেকেই সবকিছু জেনেও ভয়ে মুখ খোলে না তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি পুলিশও এখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয়টির ভেতরের ভয়াবহতা নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা জানায়, তাদের কাছে বিদ্যালয়টি চালানোর বৈধ কাগজপত্র আছে। তাহলে কিভাবে বিদ্যালয়ের নামে চালানো এই শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে, তা এখন সময়ের দাবি।

পাঠকের মন্তব্য



সম্পাদক: হাসিবুল ইসলাম
যুগ্ম সম্পাদক : এস এম শামীম
নির্বাহী সম্পাদক: এস এন পলাশ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো. শামীম
প্রকাশক: তারিকুল ইসলাম

সকাল ভবন (তৃতীয় তলা), প্যারারা রোড, বরিশাল-৮২০০।
ফোন: ০৪৩১-৬৪৮০৭, মোবাইল: ০১৭১১-৫৮৬৯৪০
ই-মেইল: [email protected], [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বরিশালটাইমস

rss goolge-plus twitter facebook
TECHNOLOGY:
টপ
  নলছিটিতে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা  বরিশাল যুবদল নেতা মোমেন শিকদারের মূর্তিমান ত্রাস!  ঝালকাঠিতে মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে হত্যা  ববির ডিন লাঞ্ছিতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন  ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির মূল উৎপাটন : চরমোনাই পীর  বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী লাঞ্ছিত, প্রতিবাদে মানববন্ধন  বরিশালে মাদরাসার জমি দখলের পায়তারা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা  বিএম কলেজের সেই ছাত্রলীগ নেত্রীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি  শিল্পমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা  এমভি মহারাজ লঞ্চের মাস্টারকে পেটালো ছাত্রলীগ