• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বিএনপিতে পাঁচ বছরের আগে উচ্চ পদে ‘না’

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৬

অন্য দল থেকে এসে হঠাৎ করেই বিএনপিতে বড় পদ বাগিয়ে নিবেন অথবা কোনো দিন রাজনীতি না করে দলের বড় পদে বসবেন— এমন সুযোগ না রেখে দলীয় গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে। এছাড়া দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন মুখ যুক্ত হতে যাচ্ছে।

দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলীয় গঠনতন্ত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে দু-একটা সংশোধনী আসতে পারে। এছাড়া বিএনপিতে এক নেতার এক পদ, প্রাথমিক সদস্য পাওয়ার ৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত কোনো উচ্চ পদে বসতে পারবে না, দলের প্রতি দায়বদ্ধতা, উপদেষ্টাদের বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হবে।

সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, পরিবার কল্যাণ সম্পাদকসহ এমন দু-একটি পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানেত চাইলে সোমবার বিকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনালের (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে না। দলকে গতিশীল করার জন্য কিছু কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তা যুগোপযোগী।’

কমিটির আকার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘খুব বড় কমিটি হবে না। কিছু নতুন মুখ আসবে, তরুণরা আসবে। যারা মারা গেছেন তাদের শূন্যস্থানে পূরণ করা হবে।’

স্থায়ী কমিটিতে কেউ বাদ পড়ছেন কিনা— এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এগুলো এমনিতেই প্রপাগান্ডা। যারা ভাল, যোগ্য তারা কেউ বাদ পড়বে না।’

বর্তমানের ১৯ সদস্যের বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে তিনটি পদ শূন্য আছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের কারণে বর্তমানে তিনটি পদ শূন্য আছে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম ও বেগম সারোয়ারী রহমান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় থাকলেও তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, দলের কো-চেয়ারম্যান করার কোনো প্রস্তাবনা নেই। দলীয় চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হলে সেই পদে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালন করার কথা বলা হয়েছে।

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের সংখ্যা বাড়ানোর গুঞ্জন থাকলেও চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত কোনো পরিবর্তন না আনার কথা জানিয়েছেন গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-কমিটির এক নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, ‘দলীয় গঠনতন্ত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আকারও খুব বড় হবে না।’

দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধনী উপ-কমিটি এসব বিষয় চূড়ান্ত করবে। এরপর তা কাউন্সিলে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ আকারে দলীয় চেয়ারপারসনকে দেওয়া হবে।

সোমবার এ উপ-কমিটির বৈঠক হওয়া কথা ছিল, কিন্তু অনিবার্য কারণে তা হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম গঠনতন্ত্র সংশোধনী উপ-কমিটির আহ্বায়ক। তিনি অসুস্থ হয়ে গত ৯ মার্চ থেকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আগামী ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল। দীর্ঘ নয় বছর পর এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল করতে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে দলটি। এর আগে ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

লাইভ

টপ