• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বাকেরগঞ্জের লেবুখালী সেতু নির্মাণ চুক্তিসই

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৬

বরিশাল: দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা আর অপেক্ষার পালা শেষে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা-বরগুনা মহাসড়কের লেবুখালীর কাছে পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হতে যাচ্ছে। সংযোগ সড়কসহ ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ এবং তীর সুরক্ষা নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লং ঝিয়াং রোডস অ্যান্ড ব্রিজ বিল্ডার্স লিমিটেড। এক হাজার ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে ২০১৮ সালের (৩৩ মাস) মধ্যেই তা সম্পন্ন করার টার্গেট নিয়েছে সরকার।

 

সেতুটি শুধু কুয়াকাটার জন্যই নয়, বরং এটি পায়রা সমুদ্র বন্দরের কারণে নির্মাণ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও হোটেলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর’র মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান লং ঝিয়াং রোডস অ্যান্ড ব্রিজ বিল্ডার্স লিমিটেড’র চেয়ারম্যান শাঙ ইয়ান লং চুক্তিপত্রে সই করেন।

 

এ সময় সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর, সংসদ সদস্য লুৎফুরনেছা, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব এম এন সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। লেবুখালীতে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রাক, লড়ি বিনা ফেরিতেই উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে। আর খুলনা হয়ে পশ্চিমাঞ্চলে যেতে বাকী থাকবে একটি মাত্র বেকুটিয়া ফেরি। এই সেতু নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও নির্দেশ দেন সেতুমন্ত্রী।

 

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেতু নির্মাণের জন্য গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাক-যোগ্যতাসম্পন্ন ৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে সড়ক অধিদপ্তরের প্রাক্কলিত দরের দ্বিগুণেরও বেশি প্রস্তাব পেশ করে সর্বনিম্ন দরদাতা। ৪৮০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ওই সেতু নির্মাণে সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব পেশকারী নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ২২ কোটি টাকার প্রস্তাব পেশ করেছে বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রায় সাড়ে ১১শ কোটি টাকা, তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রায় ১৩শ কোটি টাকা এবং সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব পড়েছে প্রাক্কলিত দরের ৪ গুনেরও বেশী, প্রায় ১ হাজার ৭শ কোটি টাকা। পায়রা নদীর লেবুখালী সেতু নির্মাণের জন্য গঠিত প্রকল্পটি গত ২৪ ফেব্র“য়ারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাভ করেছে।

 

২০১১ সালে কুয়েত উন্নয়ন তহবিলের সাথে খসড়া ঋণ চুক্তি এবং ২০১২-এর ১৩ মার্চ চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেতুটি নির্মাণে ৮০ ভাগ অর্থই কুয়েত উন্নয়ন তহবিল থেকে দেয়া হবে। ২০১৩ এর মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লেবুখালী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১২-এর মে মাসে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক এর চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। জানা গেছে, এ প্রকল্পটি দেখিয়ে পটুয়াখালীর ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ অনেক রাজনৈতিক বক্তব্যও প্রদান করে আসছেন বছরের পর বছর ধরে।

 

 

কিন্তু মূলত নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার রাস্তা শুধু লম্বা হয়েছে গত কয়েক বছরে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জবাবদিহিতাহীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জনগণের কাছে নূন্যতম কোনো দায়িত্ববোধের পরিচয় দেননি গত কয়েক বছরে। নদীর দু’পাড়ে ‘সংযোগ সেতু বা ভায়াডাক্ট’ থাকছে ৮৪০ মিটার। সেতুটির দু’প্রান্তে ৮৯০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে প্রায় ১২ হেক্টর জমি হুকুম দখল প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

লাইভ

টপ