• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বরিশাল বিএম কলেজে অনার্স ভর্তিতে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১১:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৭

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি ফি জমা দেয়া নিয়ে বিপত্তিতে পড়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ভর্তি কার্যক্রমে প্রথম দিন থেকেই ভাটা পড়েছে। প্রতিবার ভর্তির ফি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিলেও এবার এ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরির্বতন আনা হয়েছে। এ বছর থেকে টাকা জমা দিতে হবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।

তবে নতুন এ পদ্ধতির কারণে শুরুতেই ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতি অর্থাৎ কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ভর্তি ফি জমা দেয়ায় অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হতো না সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভর্তি ফি জমা দিতে হলে অতিরিক্ত ৩০ টাকা তো রয়েছেই এ পদ্ধতির এজেন্টরাও প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জোর করে হাতিয়ে নিচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থেকে ভর্তি ফি দিতে আসা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শারমিন জাহান জানান, ‘দু’দিন ধরে বরিশালেই রয়েছি। এখানে নতুন আসায় কিছু ভালো করে চিনিও না। ভর্তির নির্দেশনায় ৪ হাজার ২৭৫ টাকা লেখা থাকলেও কলেজের সামনের দোকানিরা শিওর ক্যাশের মাধ্যমে ভর্তি ফি পরিশোধের জন্য অনেক টাকা বাড়তি চাচ্ছে।

অতিরিক্ত অর্থ না থাকার কারণে ভর্তি হতে পারিনি। বাড়ি থেকে অভিভাবক টাকা নিয়ে আসার পর ভর্তি হব।’ দোকানগুলোতে অবস্থান নেয়া এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা সবাই বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই সব হচ্ছে বলে জানান। বিএম কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর স্বপন কুমার পাল বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এ পদ্ধতি অনুসরণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। সব টাকা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমা দিতে হবে।

একটি চক্র ভুল তথ্য দিয়ে শুধু কলেজের সামনের কিছু এজেন্টদের কাছে ভর্তিচ্ছুদের নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভর্তি ফি বরিশালের যেকোনো স্থানের এজেন্টদের মাধ্যমেও পেমেন্ট করা যাবে বলে জানান তিনি।

এদিকে যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তির ফি জমাদানে অনলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং রকেটের মাধ্যমে ফি জমা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে ফি জমা দিতে পারেনি।

আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত টাকা দিয়ে অনেক কষ্টে ফি জমা দিয়েছেন। ভোগান্তি কমাতে অনলাইন ফি পরিশোধের পদ্ধতি চালু হলেও সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনার্স প্রথম বর্ষে ১৯টি বিষয়ে ৫ অক্টোবর থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে ভর্তির সুযোগ পাবে। তাদেরকে রকেটের মাধ্যমে ফি জমা দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত কিংবা এজেন্টের হিসাবের (অ্যাকাউন্টের) মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে জনপ্রতি ২৫ টাকা পর্যন্ত চার্জ কাটা হবে। গত তিনদিনে শিক্ষার্থীরা রকেটে ফি জমা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে।

নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। রোববার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, ফাঁকা মাঠে টেবিল পেতে দু’টি বুথে ফি জমা নেয়া হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ঝিনাইদহের আরপপুর থেকে আসা মুজাহিদ হাসান বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, বিকাল সাড়ে ৩টা বাজে এখনও টাকা জমা দিতে পারিনি। রকেটে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নেই। এজন্য এজেন্টের কাছে জমা দিচ্ছি। কিন্তু সিরিয়াল পাইনি।

অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং রকেট যশোরের এরিয়া ম্যানেজার সৈয়দ মুশফিকুল আল্লাম সাংবাদিকদের বলেন, এই কলেজে প্রথম অনলাইনে ফি জমা সেবা চালু করা হয়েছে। নিয়ম অনুয়ায়ী শিক্ষার্থীর পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট কিংবা এজেন্টের মাধ্যমে ফি জমা দেয়া যাবে। কিন্তু ভর্তিচ্ছু ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট নেই। এজন্য অন্যের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। তবে কারও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেনের সুযোগও নেই।

ফলে দু’জনের বেশি ফি জমা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য টাকা নেই বলছে কেউ কেউ। এজেন্টদের কেউ অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান বলেন, নতুন পদ্ধতি চালু করেছি। কেউ কেউ ভোগান্তির অভিযোগ করেছে। রকেটের কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি একজনের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লাইভ

টপ