• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বরিশাল ট্রাফিক পুলিশে কালিমা লেপটে দিলো সার্জেন্ট রফিক

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১:১৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০১৬

বরিশাল: পুলিশের কর্মকান্ড নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন থাকলেও বরিশাল ট্রাফিক বিভাগ ছিলো অনেকটা বিতের্কের উর্দ্ধে। কিন্তু সেই ইমেজ ধুলোয় মিশিয়ে পুরো ট্রাফিক পুলিশে কালিমা লেপটে দিলো দুই সদস্য।

চরম বিতর্কে ফেলেছে এখানকার পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। জনসম্মুখে একজন পেশাদার সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোও বরিশাল তথা গোটা দেশে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

তাছাড়া এ বিষয়টি মিডিয়ায় গুরুত্ব পাওয়ায় দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে উচ্চমহল।

কিন্তু বিষ্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অভিযোগটি তদন্ত করে তাদের আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

যদ্দুর জানা গেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে থাকা উপ-পুলিশ কমিশনার আবু সালেহ মো. রায়হান একজন স্বচ্ছ এবং সৎ চরিত্রের মানুষ। আর তাকেই আদালত বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছেন।

সেক্ষেত্রে তিনি বিষয়টি অনেক গুরুত্ব দিয়েই দেখবেন। এবং সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনটিও আদালতের কাছে তুলে ধরবেন।

কারণ তার মতো একজন ক্লিন ইমেজের কর্মকর্তা কখোনোও ব্যক্তি পুলিশ সদস্যর জন্য পুরো ট্রাফিক বিভাগকে বিতর্কে ফেলবেন না। অভিযোগ প্রমানিত হলে ট্রাফিক পুলিশের সেই ভাবমূর্তি ধরে রাখতে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তাছাড়া বরিশাল ট্রাফিক পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রও জানিয়েছে, সাংবাদিক লাঞ্ছানাকারি তরুণ সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম এবং কনস্টেবল রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ নিয়ে এমনেতিই অস্বস্তিতে ছিলো উচ্চমহল।

সর্বশেষ সৎ-নির্ভিক সাংবাদিক হাসিবুল ইসলাম তাদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ায় শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বেকায়দায় পড়ে যায়। যে কারণে বলা চলে সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম বরিশাল ট্রাফিক পুলিশকে কালিমা লেপটে দিয়েছে। কলঙ্কিত করেছে পুরো পুলিশ প্রশাসনকে।

যদিও ট্রাফিক পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, কোন ব্যক্তি পুলিশের দায় মাথায় নেয়া সুযোগ নেই। কারণ পুলিশ প্রশাসনকে এবারে জিরো ট্রলারেন্সে থাকছে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সুতরাং কোন ধরণের অনৈতিকার সাথে আপোষ করা সুযোগ নেই। বরং অভিযোগটি তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সাথে সাথে অ্যাকশন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল ট্রাফিক পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু সালেহ মো. রায়হান জানিয়েছে, আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই আদেশের কপি হাতে পেয়েই তদন্ত শুরু করবেন। এতে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই আদালতেও প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম বাংলামেইলের আঞ্চলিক প্রতিনিধি হাসিবুল ইসলাম চকবার থেকে কর্মস্থল বগুরা রোড অফিসে মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ফলপট্টির মুখে তার গাড়িটি রোধ করে কাগজপত্র দেখতে চায় সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম এবং কনস্টেবল রুহুল আমি। এসময় হাসিবুল ইসলাম নিজের পরিচয় না দিয়ে তার গাড়িটির রেজিষ্ট্রশন নেই জানালে ২হাজার টাকা দাবি করে ওই দুই পুলিশ সদস্য।

পরবর্তীতে হাসিবুল ইসলাম সাংবাদিক পরিচয় দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই দুই পুলিশ সদস্য তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এসময় হাসিবুল ইসলাম তাদের সংযত হতে বললে তারা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমনকি তাকে মামলায় জড়িয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করার হুমকি দেয়।’

লাইভ

টপ