• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বরিশালে বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় চলছে ভোট গ্রহণ

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০১৬

বরিশাল: বরিশালে বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার মধ্যদিয়ে চলছে প্রথম দফায় অনুষ্ঠেয় ২৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার পর বিভাগের বিভিন্ন ইউনিয়নে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০০জন। বেলা ১২টার প্রাপ্ত খবরে সহিংসতা এবং ক্ষমাতাসীন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপিসহ ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ১২ চেয়ারম্যান প্রার্থী।

যদিও এখানকার শীর্ষ বিএনপি নেতারা বলছেন- ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়ার ইখতিয়ার প্রার্থীর নেই। একমাত্র দলীয় প্রধান বেগম বেগম খালেদা জিয়া পারবেন এ সিদ্ধান্ত নিতে। একই কথা জানিয়েছেন বরিশাল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও।

সূত্রমতে- ভোট শুরু হওয়ার এক ঘন্টার মাথায় সকাল ৯টার দিকে কারচুপি এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে হিজলা উপজেলায় বিএনপির ৪প্রার্থী একযোগে বর্জনের ঘোষণা দেন। এরা হলেন- উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নে আফসার উদ্দিন হাওলাদার, হরিনাথপুর ইউনিয়নে মনজুর কবীর, গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে আলী আহমেদ হাওলাদার এবং বড়জালিয়া ইউনিয়নে খলিলুর রহমান।

সেই সাথে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুর রহমান, উজিরপুর উপজেলার শাপলা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকলি ইবুনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লাবনী আক্তারও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

এদিকে, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেওয়া ও কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দড়িজর খাজুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। অভিযোগ রয়েছে- বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) আনারস মার্কার মো. মোস্তফা রাঢ়ী স্থানীয় সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের ক্ষমতায় কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে জালভোট দিয়েছে। যে কারণে তিনি ভোট বর্জন করেছেন।’

পরে বেলা সোয় ১২টার দিকে বানারীপাড়ার বাইশারী ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন রাঢ়ীও ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার অভিযোগ ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী মাইনুল হাসান মোহাম্মদের কর্মী-সমর্থকরা ভোট শুরুর পর সব কেন্দ্র দখল করে নেয়। এমনকি তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে দেদারছে জাল ভোট পেটায়।

এছাড়া ভোলা সদরের বাপ্তা ও বোরহানউদ্দিনের কাচিয়া ইউনিয়নে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, ভোলা সদরের বাপ্তা ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী হাসান তৌফিক রিহিন, বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী নুরুল আমিন নীরব ও একই ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী শেখ সাদী হাওলাদার।

তাছাড়া জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক ঘন্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। সেই সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়। এসময় ওই কেন্দ্রের প্রায় ৩শ’ ব্যালট পেপার খোয়া যায়।

তবে এসব ঘটনা ব্যতীত বিভাগের বিভিন্ন ইউনিয়নে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশার মোহনগঞ্জ’র একটি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের তান্ডবের কারণে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। যদিও সেই কেন্দ্রটিতে ঘন্টা দুয়েক পরে ফের ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

লাইভ

টপ