• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বরিশালে নলকূপ থেকে উঠছে না পানি!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১১:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৬

বরিশাল: বরিশাল নগরীতে সুপেয় পানির সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে নগরবাসীর চাহিদার অর্ধেক পানিও সিটি করপোরেশন সরবরাহ করতে পারছে না। এমতাবস্থায় নগরীর অধিকাংশ নলকূপ থেকেও পানি উঠছে না। পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ তাছাড়া পানি সঙ্কট নিরসনের জন্য কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী বেলতলা এলাকায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করা হলেও তা বিদ্যুত সংকটের কারণে চালু করা যায়নি। এ ছাড়াও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নগর ভবনের আয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এ খাতে বরাদ্দ খুবই কম। ফলে সুপেয় পানি সঙ্কটে ভুগছে নগরীর বাসিন্দারা।

 

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর ৫ লাখ লোকের প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির চাহিদা এক কোটি ২৫ লাখ গ্যালন। এর বিপরীতে ৩৫টি পাম্প ও সাতটি ওভারহেড ট্যাংকের মাধ্যমে দৈনিক সরবরাহ করা হয় মাত্র ৫৬ লাখ ৫০ হাজার গ্যালন। এটা অবশ্য সিটি করপোরেশনের কাগজে-কলমের হিসাব। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুত বিভ্রাট ও পাম্পের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সরবারহ প্রায়শই ব্যাহত হয়ে থাকে। নগরীর ৪২ হাজার ৮৪৮টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ১৭ হাজার ভবন মালিক নগর ভবনের পানির গ্রাহক। বাকিরা গভীর নলকূপ বসিয়ে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছেন।’

 

কাশিপুর ৩০নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাশিদা বেগম অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা পানির গতি কম থাকায় রিজার্ভ ট্যাংকে পানি আসে না। কখনো কখনো সামান্য একটু পানি এলেও তাতে ঠিকমতো রান্না ও গোসল করা সম্ভব হয় না। নগরীর প্রাণকেন্দ্র ভাটারখাল কলোনীর বাসিন্দা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তাদের আওতায় ৮টি টিউবয়েল রয়েছে। কিন্তু একটি টিউবয়েল থেকে পানি উঠছে না। এমনকি ওই কলোনীতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কোন পানির সংযোগ নেই। যে কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে কলোনীতে বসবাসরত অন্তত ২০০০হাজার বাসিন্দা। এমতাবস্থায় কলোনীর বাসিন্দারা বরিশাল জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। যদিও জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলছেন, নগরীর মধ্যে পানি সরবরহের বিষয়টি একান্তই বিসিসির দায়িত্ব। তার পরেও কোথাও যদিও পানির সঙ্কট দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে বিসিসি বলা হয়েছে দ্রুত ট্রাকে সরবরাহ করতে।
সিটি করপোরেশনের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম স্বপনের মতে, নিয়ম ভেঙে নগরীর বাণিজ্যিক ও পুরনো আবাসিক এলাকাগুলোতে গভীর নলকূপ বসানোর কারণেই পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বর্তমানে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড, জিলা স্কুল, ভাটারখাল কলোনী, নাজির মহল্যা, আমানতগঞ্জ, ভাটিখানা ও নথুল্যাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ অনেক এলাকায় বহু আগে বসানো নলকূপগুলোতে পানি উঠছে না। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সিটি করপোরেশনের তিনটি পাম্পও বন্ধ।

 

এ সব এলাকায় নতুন নলকূপ বসাতে গিয়ে পানির স্তর পেতে বহু গভীরে যেতে হচ্ছে। নলকূপ বসানোর কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার জাকির হোসেন জানান, ৩ থেকে ৪ বছর আগেও ৮শ থেকে ৯শ ফুট গভীরে গেলেই সুপেয় পানি পাওয়া যেত। এখন এক হাজার ফুট পর্যন্ত গভীরে যেতে হয়। সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, সংকটের মাঝেও নগরীর ৭০ ভাগ এলাকায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আর্থিক সংকটের কারণে নতুন পানির লাইন বসানো সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি উল্লেখ করে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে নতুন লাইন স্থাপন করা হবে।

লাইভ

 

টপ