• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বরিশালে আইন পরীক্ষায় বেআইনী কাজ!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১১:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০১৬

আইন (ল) পরীক্ষায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের একাধিক কর্মকর্তারা পরীক্ষার্থী হয়ে নকলের মহোৎসব চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সরকারি বরিশাল কলেজ কেন্দ্রে এক ডজন ছাত্রলীগ ও পুলিশ সদস্য কৌশলে একই কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

 

অভিযোগ রয়েছে নকলের পাশাপাশি অবাধে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরীক্ষায় অনিয়ম করেছে। এতে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় চরম ব্যাঘাতও ঘটে। পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট হাজির হয়ে অবাধে নকল করার দায়ে দুই পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরে বহিস্কার করে। অবশ্য এমন অনিয়মের কথা অকপটে অস্বীকার করেছেন পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। সরকারি বরিশাল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, আইন (ল) ১ম পর্ব পরীক্ষার শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়।

 

পরীক্ষায় অশং নেয় বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত, ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক মো. আল আমিন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই মুরাদ হোসেন, এসআই আব্দুর রহমান মুকুল এবং এসআই শামিমসহ রাজনৈতিক ও পুলিশ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ পরীক্ষার্থী বিভিন্ন রুমে সিট পড়লেও তারা বিভিন্ন ঝামেলা এড়াতে ৪ তলার ৪০৩ নম্বর হল রুমে বসে পরীক্ষা দিয়েছে। তারা অবাধে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে উত্তরপত্র শিক্ষক ও কলেজের কর্মচারীদের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই হলের এক পরীক্ষার্থী জানান, নেতারা ও পুলিশ সদস্যরা বাহিরে থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা দিয়েছেন। পুরো হলের মধ্যে হৈ-হুল্লর ছিল।

 

যার কারণে তিনিসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ব্যাঘাত ঘটেছে। শিক্ষকরাও গল্প করে সময় পার করেছেন। তবে পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে কলেজে কর্মচারীদের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট এসে শুনে সবাই নকল জানালা থেকে ফেলে দিয়েছে। আইন ১ম পর্ব পরীক্ষার সরকারি বরিশাল কলেজ কেন্দ্রের আহ্বায়ক মো. সেলিম আহম্মেদ জানান, তিনি শুনেছেন ছাত্রলীগ ও পুলিশের কিছু সদস্য পরীক্ষা দিয়েছে। তবে অনিয়মের কোন খবর পাননি। অবশ্য তিনি স্বীকার করেন পরীক্ষায় নকল করার দায়ে মিথুন চন্দ্র শীল ও মিজানুর রহমান নামে দুই জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য/বাংলাদেশের সাংবিধানির আইন পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬৪৯ জন। সিট প্লান অনুযায়ী সবাই পরীক্ষা দিয়েছে।’ তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, পরীক্ষায় কোন সমস্য হয়নি।

 

নিরিবিলি পরীক্ষা দিয়েছেন। কোন প্রকার অনৈতিক কাজ হয়েছে কিনা তা তার জানা নেই। তারা (জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি, সম্পাদক, ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক) এক সাথে পরীক্ষা দিয়েছেন। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি))মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, ল পরীক্ষার বিষয়ে তার জানা নেই। কে কে পরীক্ষা দিয়েছেন তাও তার জানা নেই। একই প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহিদুল করিম জানান, বরিশাল কলেজ কেন্দ্রের নিচ তলায় পরীক্ষার্থীর পকেট থেকে নকল বেড় হয়ে ছিল।

 

সেটা তিনি দেখে শিক্ষকদের অবহিত করলে তারা দুই জনকে বহিস্কার করেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নকলের মহোৎসব সর্ম্পকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, তিনি ১২ টার দিকে হল পরির্দশনে গিয়েছিলেন। আর পরীক্ষা শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ৯টায়। এর আগে পরীক্ষার হলে কিছু হলেও হতে পারে বলে তিনি জানান।এ ব্যাপারে সরকারি বরিশাল কলেজ অধ্যক্ষ অলিউল ইসলাম জানান, ল পরীক্ষায় দুই জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়ম বিষয় অস্বীকার করে তিনি জানান, যারা রাজনীতি করেন তারাও পরীক্ষা দিয়েছে, আবার পুলিশ সদস্যরাও পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে সবাই একই কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছে এটা সঠিক নয়। নকল করার বিষয়টিও তার জানা নেই।’

ads

লাইভ

টপ