• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বরগুনার এসপির বিরুদ্ধে মামলা, অপসারণ দাবি

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১০:০৯ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০১৬

বরগুনায় একজন আইনজীবীকে থানায় নিয়ে ‘নির্যাতনের’ প্রতিবাদে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাকসহ পাঁচ কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেছে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতি। জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে বুধবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আইনজীবীরা পুলিশ হেফাজতে অ্যাডভোকেট মইনুল আহসান বিপ্লব তালুকদারকে নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত সকল পুলিশ সদস্যদের অপসারণ দাবী করে তিনদিন ব্যপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

অন্য দিকে এ ঘটনায় বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাকসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বুধবার বিকেলে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী মইনুল আহসান বিপ্লব তালুকদার। আদালতের বিচারক বৈজয়ন্ত বিশ্বাস অভিযোগ গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য আগামী ১১মে তারিখ ধার্য্য করেন। এ অভিযোগে অন্য অভিযুক্তরা হলেন- বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জাহাঙ্গীর আলম, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায়, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুর রহমান এবং সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো: মনিরুল ইসলাম।

একই দিনে বেলা ১টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা আইনজীবী সমিতি। সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মোতালেব ও সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাহাদুর জানান, তাদের সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন দিন ব্যাপী কালোব্যাজ ধারণ, মানববন্ধন ও আধাঘণ্টা করে কর্ম বিরতি পালন করা হবে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী ১০ মে সমিতির সভা আহবান করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে আহত আইনজীবী মইনুল আহসান বিপ্লব তালুকদার জানান, আমতলী উপজেলার ঘটখালী এলাকায় গত রবিবার রাতে তাঁর ভাই আহসান হাবিবের মোটর সাইকেলের সঙ্গে অন্য একটি মোটর সাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তাঁর ভাই আহত হলে তিনি তার ভাইকে দেখতে যান।  এ সময় একটি মোটর সাইকেলের চালক অপু রায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এতে এসআই আরিফ ও কয়েকজন কনস্টেবল বাধা দেন। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে পুলিশের বকবিতণ্ডা হয়। পরে তাকে আটক করে আমতলী থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ওসি পুলক চন্দ্র রায় ও এসআই আরিফ দফায় দফায় তাঁর উপর শারীরীক নির্যাতন চালায়।

এদিকে বরগুনার আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, বরগুনার আমতলী উপজেলায় একটি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইনজীবী মইনুল আহসান বিপ্লব তালুকদার ও তার লোকজন বরিশালের কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এসময় এসআই আরিফুর রহমান, কনেষ্টবল শহীদুল ইসলাম ও নাসির উদ্দিনকেও তারা মারধর করেন এবং একটি ওয়ারলেস সেট টেনে নিয়ে ভেঙে ফেলেন আইনজীবী মইনুল। একপর্যায়ে পুলিশের সাথে হামলাকারীদের সংঘর্ষে মাইনুলসহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট মইনুলসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে একজন সহযোগীসহ একটি আঞ্চলিক পত্রিকার সাংবাদিক অপু রায় মোটর সাইকেলযোগে কুয়াকাটা থেকে বরিশাল যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আমতলী উপজেলার ঘটখালী স্ট্যান্ডের কাছাকাছি এলে বিপরীতগামী একটি মোটর সাইকেলের সাথে সংঘর্ষ হলে অপুসহ অপর মোটর সাইকেলের দুই আরোহী রিপন ও আহসান হাবিব (আইনজীবী মইনুল আহসানের ভাই) আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

এদিকে ভাই আহসান হাবিবের আহত হওয়ার খবর পেয়ে আইনজীবী মইনুল আহসান তালুকদার বিপ্লব ও তার ভাই প্রিন্স তালুকদার, ইউসুফ তালুকদার, টেলিশন তালুকদার লোকজন নিয়ে হাসপাতাল গেটে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক অপু রায়কে মারধর করেন। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের ওপরও চড়াও হন আইনজীবী মইনুল ও তার লোকজন। এ ঘটনায় পুলিশ অ্যাডভোকেট মাইনুলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। আহত আইনজীবী মইনুল বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক সাংবাদিকদের জানান, তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, থানায় নিয়ে কোনরূপ নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। যা কিছু ঘটেছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই ঘটেছে। তিনি আরও জানান, আইনজীবী মইনুলের বিরুদ্ধে এর আগেও ২০১২ সালে আমতলী থানায় পুলিশের উপরে হামলার অভিযোগে অপর একটি মামলা রয়েছে।

 

লাইভ

টপ