• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

পলাশপুরে মাদক নিয়ে সালিশ বিচার, ভাগা নিলেন ডিবির এসআই

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট৩:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৭

বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকায় মাদক বিক্রিকে কেন্দ্র লঙ্কাকান্ড তৈরি হয়েছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ির ২ কেজি গাঁজা হারিয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি দেখা দেয়। শেষাবধি ওই এলাকার কথিত এক আওয়ামী লীগ নেতা বিচার সালিশও করেছেন। এমনকি গাঁজা হারানোর অপরাধে তার আদালতে নজীর নামে এক ব্যক্তি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই জরিমানার টাকা পরিশোধের জন্য শেষ পর্যন্ত ছাগল বিক্রি করে দিয়েছেন।

তাছাড়া জরিমানার টাকার ওপরে বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভাগ বসিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। যে কারণে এই বিষয়টি নিয়েই এখন ওই এলাকায় তোলপাড় যাচ্ছে। বিশেষ করে এই গাঁজা কেলেঙ্ককারির বিষয়টি সম্পর্কে সকলেই অবগত রয়েছেন।

এমনকি সংশি¬ষ্ট কাউনিয়া থানা পুলিশ। কিন্তু মাদক ব্যবসায়িদের সাথে কাউনিয়া পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তার গভীর সখ্যতা থাকায় বরাবরই কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। বরং সেখানকার পুলিশ তাদের (মাদক ব্যবসায়ি) কাছ থেকে মাস শেষে উৎকোচ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন বাস্তবতায় অনুসন্ধানী সূত্রগুলো জানিয়েছে- সম্প্রতি ওই এলাকার গাঁজা কালাম ২ কেজি গাঁজা প্রতিবেশি নজীরের কাছে রাখতে দেন। কিন্তু সেই মাদক নজীর ফেরত না দিয়ে বলেন চুরি হয়ে গেছে। ১৬ হাজার টাকা মূল্যের গাঁজা হারিয়ে দিশেহারা কালাম। যে কারণে নজীরকে চাপের মুখে ফেলে গাঁজা উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হারানো গাঁজা উদ্ধার সম্ভব নয় নজীরের এমন সরল উত্তরে বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ফলে বিষয়টি ওই এলাকার কথিত আওয়ামী লীগ নেতা বাবুর কান পর্যন্ত গড়ায়।

পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বাসায় বিষয়টি নিয়ে মিমাংসাও বসা হয়। সেখানে বাবুর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাঁজা কালামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে সম্মত হন নজির। কিন্তু সেই জরিমানার টাকা দিতে পারছিলেন না নজীর। যে কারণে বাবু তাকে ছাগল বিক্রির পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই নজীর এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন- মাদক বিক্রির টাকা দিতে না পারায় প্রতিনিয়ত তাকে মারধর করার হুমকি দিতেন বাবু ও গাঁজা কালাম। যে কারণে শেষতক বাধ্য হয়ে ২০ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল মাত্র ১০ হাজারে বিক্রি করেদিয়েছেন।

সেই বিক্রির টাকা বাবুর কাছে জমা দিয়েছেন। নিশ্চিত হওয়া গেছে সেই টাকার ওপরে ভাগ বসিয়েছেন ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক আশিষ পাল। ওই এলাকার রফিক নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি হাতিয়েছেন ২ হাজার টাকা। এমতাবস্থায় বাবুও পুরো বিষয়টি স্বীকার করে বলছেন- ঝামেলা হওয়ায় তিনি মিমাংসা করেছেন। কিন্তু জরিমানার টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন।

অথচ নজীর বলছেন পুরো টাকাটি বাবুই নিয়েছেন এমন প্রশ্নে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তিনি। এই পুরো বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরেও মাদক ব্যবসায়িরা গাঁজা কালামের ‘দম্ভোক্তি’ হচ্ছে পুলিশকে ম্যানেজ করে মাদক বিক্রি করি। তাছাড়া নজীর যে টাকা জরিমানা দিয়েছে তা থেকে ডিবি পুলিশের এসআই আশিষ পালও ২ হাজার নিয়েছেন। সুতরাং কাউকে “থোরাও কেয়ার” করার মত সময় নেই।

তবে এসব অভিযোগ সমূলে অস্বীকার করে ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলছেন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শুধু ডিবি নয়, দীর্ঘদিনের অনুসন্ধ্যানে কাউনিয়া পুলিশ সম্পর্কে যে সকল তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে তা শুনে খোদ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও হকচকিয়ে যাবেন। কারণ মাদক ব্যবসায়িরাই এখন মাঠে বলে বেড়াচ্ছেন কোন পুলিশ কর্মকর্তা কার কাছ থেকে কত টাকা মাস শেষে নিচ্ছেন। আগামীতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পড়তে চোখ রাখুন…।

 

লাইভ

টপ