• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

নির্বাচনে সরোয়ারের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট২:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০১৬

বরিশাল: বরিশালে সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের দিন জেলার কান্ডারি কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের বরিশালে অনুপস্থিতি নিয়ে খোদ দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা এলাকায় না থাকায় দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা কোন দিক নির্দেশনা পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারনে আ’লীগ দলীয় প্রার্থীরা কেন্দ্র দখল ও ব্যাপক কারচুপির আশ্রয় নিলেও বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকরা কোথাও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বা উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এমনকি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যেকার অনেকেই নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে ঘরে ওঠেন ভোট শুরুর পরপরই। এক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনে অনেক ভূল সিদ্ধান্ত ছিল বলে দ্বায়িত্বশীল নেতারা এখন অকপটেই স্বীকার করছেন।

 

বিশেষ করে সবচেয়ে বিএনপি সমর্থিত ভোটার এলাকা সদর উপজেলার কাশিপুরের প্রার্থী মনোনয়ন এবং নির্বাচনের দিন তার অবস্থান ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে। সবকিছুর দ্বায়ভার নিতে ব্যর্থ হওয়ায় দলের মধ্যে এখন ক্ষোভ শুধু সরোয়ারকে নিয়ে। অন্তত তিনি মাঠে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্নতা সৃষ্টি হতে পারত বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন। অথচ তিনি ঢাকায় অবস্থান নিয়ে তার বরিশাল না থাকার প্রশ্নে নির্বাচনে আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূমিকায় হতাশার কথা বলে এখন দায় এড়াতে চাচ্ছেন বলে শোনা গেছে। ভোটের দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা কেন্দ্রে যেভাবে অবস্থান নিয়েছিলন সে তূলনায় বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা ছিল নিরব। যদিও অভিযোগ রয়েছে আ’লীগের জেলার দ্বায়িত্বশীল নেতারা নির্বাচনে জয় ঘরে তুলতে ভোটের আগের দিন রাতে নিজেদের ইচ্ছেমত প্রশাসনের সর্বস্তরের দ্বয়িত্বশীল ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে কেন্দ্র প্রিজাইডিং অফিসারকে দিক নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিল ভোট কিভাবে চলবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতায় থাকা সত্বেও আ’লীগের শীর্ষ এক নেতার সার্বিক পরিকল্পনায় আইনশৃংখলা বাহিনীসহ সিভিল প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনে বিশেষ বরাদ্দকৃত অর্থ পাঠিয়ে দেয়।

 

অভিযোগ রয়েছে এই অর্থ আ’লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা হয়। কৌশল ছিল বাহিরের পরিবেশ শান্ত রেখে ভিতরে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যালট পেপার ভোটারদের হাতে না দিয়ে নৌকায় সিল মেরে পর্যায়ক্রমে বাক্স ভরা। সূত্র জানায়, বিএনপির দ্বায়িত্বশীল নেতারা তা আঁচ করতে পারলেও তা প্রতিরোধে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কোন দিক নির্দেশনা তো দেয়ইনি। এমনকি নিজেরাও কেন্দ্রের আশেপাশে যায়নি। ভোটারদের অভিমত প্রতিটি এলাকায় বিএনপির শক্ত অবস্থান থাকলেও নেতা ও প্রার্থীদের হাল দেখে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা আগ বাড়িয়ে কোন ভূমিকায় যেতে প্রয়োজন মনে করেনি। বরিশাল সদরের ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র চরবাড়িয়া ইউনিয়নের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে ফাইটিং পজিশন গড়ে তুলেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রশাসনের সহায়তায় যুব ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে নৌকা প্রতিকে সিল মারতে থাকে। যুবলীগ নেতা কাউনিয়ার রফিকুল ইসলাম ওরফে মামা খোকন একাই ভূমিকা রেখে যেভাবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রবেশ করে নৌকা প্রতিকে সিল মেরে বাক্স ভরেন, সেই দৃশ্য ছিল নজিরবিহীন। সঙ্গত কারনে সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী সাবু অপেক্ষা অনেক দূর্বল আ’লীগের মাহাতাব উদ্দিন সুরুজের বিজয় দুপুরের আগেই নিশ্চিত হয়ে যায়। কথা উঠেছে, বরিশাল বিভাগের প্রাণকেন্দ্র কাশিপুর ইউনিয়ন নিয়ে। বিএনপির ভোট ব্যাংক বলে খ্যাত এই ইউনিয়নে সংগঠনের প্রতিরোধ গড়ে তোলার মত অনেক লোকজন থাকলেও নির্বাচনের কোন কেন্দ্রে তাদের দেখা যায়নি। খোদ দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন সিকদারকে সকালে তার নিজ কেন্দ্র বিহঙ্গলে এক পলক দেখা গেলেও আর তার খোঁজ মেলেনি। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কাশিপুরের কোন কেন্দ্রের দলীয় নেতাকর্মীদেরও দেখা যায়নি। মূলত প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত স্থানীয় নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারেনি। শুধুমাত্র বিএনপি নেতা কাজী জাহাঙ্গীরকে প্রতিটি কেন্দ্রে ঘুরতে দেখা গেছে।

 

বিএনপির এই দুর্বলতার কারণেই সেখানে লিটন মোল্যার মত একজন বিতর্কিত ব্যক্তি অনায়াসে জিতে যায় বলে বাজারে সমালোচনা হচ্ছে। জানা গেছে, আ’লীগ দলীয় এই প্রার্থীর এজেন্টরা বেলা ১২টার পর ভোটের বাক্সে নৌকা প্রতিকের ব্যালট সিল মেরে ভরে ফেলে। দলের মধ্যে কথা উঠেছে ভোট কারচুপি হবে এটা উপলদ্ধি করা সত্বেও বিএনপি প্রভাবিত এই ১০ ইউনিয়নে প্রার্থী নির্বাচনে সিদ্ধান্তে ভুলের কারণে দলীয় মতভেদ এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা নিস্ক্রিয় থাকায় আ’লীগ যতটা না আতঙ্কে ছিল নির্বাচনের দিন পেয়ে যায় ফাঁকা মাঠ। কেউ প্রকাশ্যে না বললেও সংগঠনের মধ্যে কথা উঠেছে কেন্দ্রীয় নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের একক সিদ্ধান্তে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে দূর্বল প্রার্থীরা সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাজে লাগিয়ে ভোট ডাকাতির বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে অন্তত অনেক কেন্দ্রেই নির্বাচন স্থগিত করা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের কোন পথ থাকত না। দ্বায়িত্বশীল অনেক নেতারা নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে জানান, জেলার নিয়ন্ত্রক ও কেন্দ্রীয় নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের কারনেই ভোটের মাঠের চিত্র ভিন্নতা সৃষ্টি করে। তিনি কোন দ্বায়িত্ব না নেওয়া ও দিক নির্দেশনা না দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ের অনেক সাহসী নেতাকর্মীরা আ’লীগের মুখোমুখি হতে উৎসাহবোধ করেনি।

 

আবার কেউ বলছে সরোয়ার নির্বাচনের মাঠে থাকলে নেতাকর্মীরা অনেক সাহসী ভূমিকা নিতে পারত। জানা গেছে, মজিবর রহমান সরোয়ার নির্বাচনের আগে থেকেই ঢাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন দলীয় কাউন্সিলের অজুহাত নিয়ে। তার এই ভুমিকাও রহস্যজনক বলে মনে করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সরোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল শেষ হলেও হাইকোর্টে জরুরী কাজ থাকায় নির্বাচনের দিন এলাকায় থাকতে পারেননি। দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তার স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নিয়ে তার ব্যাখ্যা হচ্ছে ইউনিয়ন ও উপজেলা নেতাদের মতামতের ভিত্তিতেই দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তার এ দাবী মানতে নারাজ জেলার দ্বায়িত্বশীল অধিকাংশ নেতারা।

লাইভ

টপ