• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

নলছিটির ক্লিনিকগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট দিয়ে চলছে চিকিৎসা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট৫:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৭

রোগ নির্ণয়ের ক্যামিক্যালের নাম রিএজেন্ট। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ এ রিএজেন্ট দিয়েই চিকিৎসা কার্যক্রম চলছিলো নলছিটির বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক’ এবং ‘ইমা মেডিসিন ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে। অবশেষে জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে ক্লিনিকপাড়ায় হানা দেয় র‌্যাব-৮। বেরিয়ে এলো এ দুটি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানের অপচিকিৎসার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রতিনিয়তই তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনরা। দিনের পর দিন সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অন্ধকারে রেখে প্রতিনিয়তই কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল তারা। বেশ কয়েকটি মারাত্মক অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা শহরের টিএন্ডটি সড়কের সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ইমা মেডিসিন ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী মো. মায়েল হোসেনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাব সদর দফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. গাউছুল আজম এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. গাউছুল আজম জানান, স্থায়ী ডাক্তার ও প্রশিক্ষিত নার্স না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট, আনবিক শক্তি কমিশনের অনুমোদন নবায়ন না করা, ক্লিনিকের ভেতরে অবস্থিত ফর্মেসীর ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা ও অতিরিক্ত বেডসহ নানা অনিয়মের কারণে সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আনবিক শক্তি কমিশনের অনুমোদন ব্যতীত ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার অভিযোগে ইমা মেডিসিন ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী মায়েল হোসেনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে গাউছুল আজম নলছিটির আরও তিনটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত র‌্যাবের অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক জরিমানা প্রসঙ্গে কথা বলেন। আনবিক শক্তি কমিশনের অনুমোদন না থাকা, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে নাহার জেনারেল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে এই দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং নোংরা পরিবেশে ল্যাব পরিচালনা করা, সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও দক্ষ নার্স-টেকনেশিয়ান না থাকা, অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ফারাজানা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে একটি অভিযান পরিচালনার সময় ওই ক্লিনিকের মালিকরা স্থানীয় সংসদ সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নাম ভাঙিয়ে বিচারকার্য প্রভাবিত করার চেষ্টার করেন বলে প্রেস ব্রিফিং-এ র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. গাউছুল আজম জানান। র‌্যাব জানান, একটি ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনার সময় প্রতারণার কৌশল দেখে রীতিমতো আঁতকে ওঠে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া রিএজেন্টের গায়ে ওভার রাইটিং করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদ লেখা ছিল। নিবন্ধনে এখানকার ক্লিনিকগুলোতে ১০টি বেডের অনুমোদন থাকলেও সেখানে পাওয়া গেছে ১৫-১৭টি বেড। ওই সব ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক ৩ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও প্রশিক্ষিত কোন ডাক্তার পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, উপজেলার টিএন্ডটি ও হাসপাতাল সড়কে গত কয়েক বছরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর অধিকাংশ ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই স্থায়ী চিকিৎসক, দক্ষ টেকনেশিয়ান, নার্স, আয়া বা অন্যান্য স্টাফ। একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তারা এখন আর লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজন মনে করছেন না। এতে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি ক্লিনিকের সাইনবোর্ডে কিছু স্বনামধন্য ডাক্তারের নাম লেখা থাকলেও তারা কখনো আসে না ক্লিনিকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীদের ভাগিয়ে আনার জন্য নিয়োজিত রয়েছে একাধিক দালাল। রোগী আনলেই পায় নির্দিষ্ট হারে কমিশন। এসব নামসর্বস্ব ও নিম্নমানের স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চলে অপচিকিৎসাও। এসব প্রতিষ্ঠানে সুচিকিৎসার দেখা যেমন মেলে না, তেমনি পিয়ন বা ওটি বয় থেকে ক্লিনিক মালিক হয়ে উঠার চাঞ্চল্যকর তথ্যও রয়েছে।

এদিকে নলছিটিতে ক্লিনিকপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। জনস্বার্থ রক্ষায় এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

লাইভ

টপ