• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

দালালের দখলে উজিরপুর সেটেলমেন্ট অফিস

জহির খান৬:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৭

দুর্নীতিবাজ অফিসার ও তাদের নিযুক্ত ভাড়াটিয়া দালালের আখড়ায় পরিনত হয়েছে জেলার উজিরপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস।

ওই দফতরের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা শেখ হাবিবুর রহমান ও তার সহযোগী (টেবিল পেশকার) মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে একজনের ভোগ দখলীয় জমি আরেকজনের নামে লিখে দেয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্র মতে, মাহাবুবুর রহমান ওই অফিসের একজন সার্ভেয়ার হয়েও কর্তৃপক্ষের নির্দেশানুযায়ী সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা শেখ হাবিবুর রহমানের টেবিল পেশকার হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছেন।

সে সুবাদে তিনি তার নিযুক্ত নিজস্ব দালালের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সর্বশান্ত করছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসহায় ভ‚মি মালিকদের।

ওই অফিসে সেবা নিতে এসে হয়রানির স্বীকার এক ভূক্তভোগী অভিযোগ করেন, সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা শেখ হাবিবুর রহমান ও তার সহকারী মাহাবুবকে যারা মোটা অংকের টাকা দেয় তাদের কাজই দ্রুত হয়।

তাছাড়া যাদের কাগজপত্র পুরোপুরি সঠিক তাদের ক্ষেত্রেও মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করছেন ওই কর্মকর্তা।

আর দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই তাদের কাজ নিয়ে শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা। ওই কর্মকর্তার ঘুষ লেনদেনের এসব কাজ তার সহযোগী মাহাবুব নিজেই করেছেন বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে (২৮ নভেম্বর) উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস ঘুরে দেখা গেছে, জমির আপত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় পক্ষের শুনানি চলাকালে প্রকাশ্যেই চলছে ঘুষের টাকা লেনদেনের ছড়াছড়ি।

কখনও এজলাসে আবার কখনও অফিসের বাহিরে টেবিল পেশকার, জারিকারক এবং দালালের মাধ্যমে অবৈধ টাকার লেনদেন সেরে নিচ্ছেন অফিসার শেখ হাবিবুর রহমান।

এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছে স্থানীয় কয়েকজন মোহরী ও সেটেলমেন্ট কেন্দ্রীক কয়েকটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। দালালদের বেশীরভাগই স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুসারী ও সদ্য যোগদানকৃত আওয়ামীলীগ কর্মী।

এরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা সেটেলমেন্ট ও সাব রেজিষ্টী অফিসে সেবা নিতে আসা নিরীহ ভূমি মালিকদের কাছ থেকে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই অফিসে দিনের বেলায় আর সন্ধ্যার পরে অফিসারদের বাসায় চলে ঘুষের টাকা লেনদেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আবুল কালাম শহিদ প্রায় এক যুগ ধরে উপজেলায় অবৈধভাবে টেবিল পেশকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে তিনি শোলক ইউনিয়নের দায়িত্বে থেকে ঘুষ বাণিজ্যের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। অতিসম্প্রতি আবুল কালাম শহিদ এক পক্ষের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে কাজ করায় প্রকাশ্যে হামলার শিকার হয়েছিলেন।

তাছাড়া ইউনিয়ন ভিত্তিক বন্টনে উপজেলার হারতা ও সাতলা ইউনিয়নে দায়িত্বরত সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মোল্লা আবু সাইদ, কালাম হোসেনসহ তার সহকারী (টেবিল পেশকার) আনসার উল্লার বিরুদ্ধে প্রায়ই উৎকোচের বিনিময়ে একই জমির মাঠ পর্চা একাধিক ব্যক্তিকে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সাতলা ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের দুলাল হালদার অভিযোগ করেন, তার জমির সকল কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্বেও টেবিল পেশকার আনসার উল্লাহ মাঠ পর্চায় ভুল হয়েছে সংশোধন করতে হবে জানিয়ে তার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবী করেন। তবে অভিযোগ সম্পূর্ন অস্বীকার করেছেন টেবিল পেশকার আনসার উল্লাহ।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, যদি কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ কিংবা অনিয়মের সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লাইভ

টপ