• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

“তোমার কাছেই তো থাকবো আমি” II জেবুন্নেছা আফরোজ

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০১৬

এপ্রিল মাস সবাই যেন ব্যস্ত। কিভাবে তাদের নেতা অথবা বড় ভাই আথবা কাছের মানুষ শওকত হোসেন হিরনকে নিজের মধ্যে ধারণ করে সম্পূন্ন শ্রদ্ধা উজার করবে। কি যেন এক হাহাকার চলছে। বাসার সামনে কিছু ছবি যেন সব জীবন্ত কথা হয়ে ফুটে উঠেছে। বিষয়টা অনেকটা এরকম ‘প্রিয় হিরন ভাই আসবেন ৯ এপ্রিল’। এর জন্যই চলছে সাজসজ্জা।

মনটা অস্থির হয়ে উঠে। মনে হয় যেন সারা পৃথীবির উপর রাগ/ অভিমান, দুঃখ কি যে কারণ তার উত্তর খুজে পাওয়া যায় না। হিরন শুয়ে আছে, কবর বাধানো হয়েছে, সেতসূব্র পাথার দিয়ে শুয়ে আছে হিরন। মনে হচ্ছে প্রতিক্ষায় আছে। কখন যাবো তার কাছে, দিন যায়, মাস যায়, কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। তারপরও কোথাও যেনো শূন্যতা। নিজের সাথে নিজের কথা বলা, হিরন বলছে জেবু তুমিতো অনেক ব্যস্ত, একটু আমাকে সময় দেও। বলি আরও কিছুদিন পরে তারপর কোন কথা নাই।

হিরন জীবনে অনেক সংগ্রাম/কষ্ট করেছে। ও পিতৃ হারা হয় ২০-২১ বছর বয়সে। ভাই-বোন-মা সবাইকেই দেখবাল করতো। এক সময় আমি ওর জীবনে আসলাম। নিজের মা-ভাই-বোনদের পাশে থেকেছে বটগাছের মতো। তারাও ভাইকে দেখতো পিতার মতো। মাকে সর্বোচ্চ চেস্টা করেছে সুখি করতে। বোনদের রেখেছে ভালবাসা আর সবক্ষনিক খোঁজ খবর রাখতে।

ভাই বোনদের কোনদিনও বুঝতে দেয়নি পিতার অভাব। নিজের দুই সন্তানকে কে সম্পূন্ন আমার উপর ছেড়ে দিয়েছিলো। হিরনের একটাই কথা ছিলো। ‘তৃণা-সাজিদের জন তুমি আছো আর আমি ছাড়া আমার পরিবারের জন্য কে আছে বলো’। হিরন তার মা-ভাই-বোনদের অনেক দোয়া নিয়ে এই দুনিয়া থেকে চলে গেছে। হিরন সবার জন্য প্রচুর করেছে। ও মাঝে মাঝে বলতো, তোমার জন্য কিছু রেখে যাবো না, কিন্তু আমার দুটি রত্ম রেখে যাবো। তুমি ওদের মধ্যেই আমাকে খুজে পাবে।

আমি অবাক হয়ে বলতাম তুমি যাবে কই? বনবাসে, উত্তর দিতো না। একদিন আমি আর হিরন বসে টিভি দেখছি, হঠাৎ বলে উঠে-আমি তো আর বেশী দিনএই দুনিয়াতে থাকবো না, তখন তুমি কখনই নিজেকে একা ভাববে না। তুমি সবাইকে নিয়ে থাকতে ভালবাসো-আমি এমন ভাবে সব রেখে যাবো যাতে আমার প্রতিছবি হয়ে তুমি থাকতে পারো সবার মধ্যে। আমি খুব বিরক্ত হয়ে বলি যে-সারাদিন তোমার মুখে মৃত্যু ছাড়া কোন কথাই নেই। উত্তর দেয় না।

মেয়র নির্বাচনের কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুর গেলাম। সেখানে সেই সিঙ্গাপুরের সব সুন্দয্য বর্ধনের যা কিছু ছিলো। গাছ-পালা থেকে শুরু করে রাস্তা পাশের বসার ব্রেঞ্চ, লাইটপোস্টসহ প্রতিটার ছুবি তুলেছে। আমি বলি তুমি এভাবে সিঙ্গাপুরের ছবি তুলছো কেন-উত্তরে বললো খোদাতাওলা কোন দিন যদি আমাকে বরিশালবাসী জন্য খেদমতে সুযোগ করে দেন তাহলে আমি বরিশালকে অন্ততপক্ষে সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি নিয়ে আসবো। আমার কাছে এই উক্তি ছিলো পৃথীবির সেরা কৌতুকের কথা মনে হলো। তাতে ও একটু মনখারব করলো। কারণ আমি ওর ইচ্ছেটাকে কোন রকম গুরুত্ব দিলাম না দেখে। তারপরে বরিশালকে সিঙ্গপুর না হলেও অন্ততপক্ষে পরিছন্ন আর সবুজ শহর হিসেবে গেড়ে তুলতে পেরেছেন।

আসলে হিরন ছিলো একজন ডায়ানামিক আর কর্মউদ্যম মানুষ। সর্বক্ষেত্রে ছিলো ওর পারদর্শিতা। ওরা ছিলো অদ্ভুত এক সাংগঠনিক দক্ষতা। রাজনীতিতে তার ছিলো অসম্ভব রকম প্রজ্ঞা আর নৈতিকতা। ও ছিলো একজন প্রতিজ্ঞাবান মানুষ। যেমন মেয়র নির্বাচনের পরে যখন যাকে যেভাবে কথা দিয়েছে তা সে রাখার চেস্টা করেছে। শুধু হিরনের প্রতি বরিশালবাসীই না সারা বাংলাদেশে আমি কোন কাজে যেখানেই যাইনা কেন সেখানে আমার যখন সবাই আমার পরিচয় লোকজন পান তখন অবাক বিস্ময় আমার দিকে তাকায়। অথাৎ আমার মধ্যে মনে হয় তারা হিরনকে খোঁজে। মনে হয় যেন হিরনের কর্মকান্ড বাংলাদেশের সবার মন ছুয়ে গেছে।

প্রতিটি ক্ষেত্রে ওর খোলাধুলা কিংবা কালচারাল প্রাগ্রম হউক সব বিষয় তার ছিলো উৎসাহ। ওর মধ্যে একটি ব্যপার সবসময় খেয়াল করতাম, সেটা হলো রাজনৈতিক ভাবে যারা তার সিনিয়র অথবা অন্য অদর্শের নেতৃবৃন্দদের কেও যে কিভাবে সন্মান করতো আর যারা তার সমবয়সী বা ছোট ছিলো তাদেরকে যে কিভাবে স্নেহের ব্যবহার অথবা আচারণ করতো যা সবাই এখন তা মনে করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াই, যারা তাকে জীবনে কোন দিন দেখেনি তারও আফসোস করে।

দেখতে দেখতে দুই বছর পার হয়ে গেলো। প্রথম বছর মনে হতো একটু দেশের বাহিরে গেছে। কাজ শেষ হলেই আবার ফিরে আসবে। আর এখন মনে হয় ও আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে। বলছে ‘জেবু একটু সময় বেড় করো আমারা দুইজনে কোথাও ঘুরে আসি’ বলি আমি আর একটু কাজ শেষ করি তারপর অনেক সময় পাওয়া যাবে। তখন ‘তোমার কাছেই তো থাকবো আমি’।

লেখক: সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ

লাইভ

টপ