• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

ঝালকাঠিতে ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর আত্মহুতি

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট৯:৫৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৬

ঝালকাঠিতে গণধর্ষণের শিকার লাবনী আক্তার প্রিয়া নামে এক স্কুলছাত্রী লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহুতি দেয়ার একটি ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনাটি গত শনিবারের হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের কারণে ধর্ষিতার পরিবার আইনী সহযোগিতা নিতে পারছেন না। এমনকি চাপ প্রয়োগের কারণে ওই স্কুলছাত্রীর লাশ দাফনেও পরিবারকে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু থানা পুলিশকেও বিষয়টি না জানাতে নানা ধরণের হুমকী-ধামকি দেয়া হচ্ছে। ফলে অজানা আতঙ্কে ভুগছে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর পরিবার।

 

এমতাবস্থায় গতকাল এ বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই স্কুলছাত্রী বাড়ি ঝালকাঠির সদর উপজেলার বিনয়কাঠীতে তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ওই গ্রামের দিনমজুর মোজ্জাম্মেলের কণ্যা লাবনি আক্তার প্রিয়া সুগন্ধিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে- এ বিষয়ে প্রিয়ার বাবা মোফাজ্জেল এবং ফুফু মালা বেগমের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তারা প্রভাবশালীদের ভয়ভীতি কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

 

তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকরা তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিলে বিষয়টি প্রকাশ করেন। তারা জানিয়েছে- গত শনিবার রাতে প্রিয়ার বাবা মা বাড়িতে না থাকায় চাচার ঘর থেকে ভাত খেয়ে নিজ বাসায় ঘুমাতে যায়। এসময় লাবনী আক্তার প্রিয়ার চাচাতো দুলাভাই স্থানীয় আবু খার বখাটে পুত্র স্বপন প্রেমের ফাদে ফেলে রাতে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা দেখে ফেলে তাদের আটক করে স্থানীয় মোড়লের পুত্র বখাটে সুমন, রসুলের পুত্র হুমায়ূন, গনি সরদারের পুত্র ফোরকান, ছালাম সরদারের পুত্র বাবু ওরফে হৃদয়। এক পর্যায়ে তারাও প্রিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে এরাই প্রিয়াকে পরিবারের কাছে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শাসিয়ে যায়।

 

এমনকি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে দিয়ে মামলা বা কারও কাছে অভিযোগ না করার জন্য অব্যাহত হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মুখ খুলতে পারছে না প্রিয়ার অভিভাবকরা। তখন প্রিয়া মান ইজ্জতের কথা চিন্তা করে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করলে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এসময় পরিবারের সদস্যারা তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেবাচিমে প্রিয়ার মৃত্যু হয়। প্রিয়ার বড় চাচা বলেন, ৫ বছর পূর্বে তার বড় মেয়েকে ফুসলিয়ে বিয়ে করে এই ধর্ষক স্বপন। তার পর থেকেই মেয়ে ও মেয়ে জামাইয়ের সাথে সম্পর্ক রাখেনি তারা।

 

এর জের ধরে এমন ফাঁদ আবারও পাতে স্বপন। মেয়েকে হারিয়ে প্রিয়ার মা বাকরুদ্ধ হয়ে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকেন। তার কাছে ঘটনার কথা জিজ্ঞেস করলে কিছুই যেন বলতে পারছেনা।’ এ ব্যাপারে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহে আলম বলেন, এমন ঘটনা তাদের জানা নেই। কোন অ্যাকশনে যেতে হলে অভিযোগে প্রয়োজন। অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ads

লাইভ

টপ