• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় নির্মম নির্যাতন!

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট২:০২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৬

‘কন্যা মানেই বোঝা নয়-করবে তারা বিশ্ব জয়’, ‘মানবতার উন্নয়ন-নারীর ক্ষমতায়ন’- এমন নানা শ্লোগানে যখন দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হচ্ছে ঠিক সেই নারী দিবসেই (৮ মার্চ) কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় এক কলেজ ছাত্রীকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। স্বামীর হাতে নির্যাতিত গৃহবধূ আয়েশা খাতুন সাথী (২৪) এখন কামারখন্দ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। লোকলজ্জা ও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে থানায় মামলাও করতে পারছেন না।

আয়েশা খাতুন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের সদানন্দপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আমিনুল ইসলামের মেয়ে ও বেলকুচি উপজেলার নাগগাতী গ্রামের হাজী নুর হোসেন মন্ডলের ছেলে তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আলী ওরফে আবু সামার স্ত্রী।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কলেজ ছাত্রী আয়েশা খাতুন সাথী জানান, ২০১৩ সালের ৮মে ডিগ্রী প্রথম বর্ষ পরীক্ষা শেষ হবার পর বাবা-মা সিঙ্গাপুর ফেরত আলহাজ আলী ওরফে আবু সামার সাথে দুই ভরি গহনা এবং দেড় লক্ষ টাকা কাবিন মূলে বিয়ে দেন। ছেলে বিদেশ ফেরত এবং দেশে তাঁতের ব্যবসা- সব মিলিয়ে বাবা-মাসহ সকলেই খুশি ছিল। কিন্তু ৫ মাস পর স্বামীর নিষ্ঠুর চেহারা ফুটে ওঠে। প্রথমে যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু করে। প্রতিরাতে মারপিট করত। এ অবস্থায় গর্ভে সন্তান আসে। পরীক্ষা করে দেখা যায় কন্যা সন্তান। শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। সন্তান নষ্ট করার জন্য প্রতিরাতে মারপিট করত। সিগারেট দিয়ে ছ্যাকা দিত।

কান্নাজড়িত কন্ঠে আয়েশা জানান, বাচ্চা নষ্ট করতে এক পর্যায়ে নিষ্ঠুর স্বামী যৌনাঙ্গে টিভির রিমোট পর্যন্ত ঢুকিয়ে দিয়েছিল। এতো নির্যাতনের পরও সন্তান নষ্ট করিনি। ভেবেছিলাম সন্তানের মুখ দেখে পাল্টে যাবে। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্ম নেবার পর আরো নির্যাতন বেড়ে যায়। আমার এবং সন্তানের কাপড়-ওষুধ কেনার কোন খরচ দেয় না। চাইলে ফকির মেয়ে বলে নানা ধরনের কটুক্তি ও অত্যাচার-নির্যাতন করত। এ জন্য বাবা-মা প্রতি সপ্তাহে খরচের টাকা দিয়ে আসত। তবুও লোকলজ্জার ভয়ে নির্যাতন সহ্য করে চলেছি। প্রায় ছয়মাস আগে শিশু কন্যা তানিশাকে নিষ্ঠুর বাবা বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমার ননদ শিশুটিকে রক্ষা করে। ইচ্ছে ছিল শত নির্যাতন সহ্য করে ডিগ্রী পরীক্ষা শেষ করব। নিজের পায়ে দাঁড়াব। কিন্তু কলেজে ভর্তি হলে স্বামী লেখাপড়া করতে নিষেধ করেন। পড়াশোনার ইচ্ছা থাকায় হাল ছাড়িনি। কারণ আমি বুঝে নিয়েছিলাম, মেয়ের জন্য হলেও আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এ অবস্থায় গত ৮ মার্চ সকালে মেয়ের জন্য কিছু টাকা চাইলে কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার কারণে আবার নির্যাতন করে। একই সঙ্গে দেড় লক্ষ টাকা যৌতুক ও পড়াশোনা বন্ধ করার চাপ দেয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে লাঠি দিয়ে বেদম পেটাতে থাকে। প্রতিবেশীর ফোন পেয়ে বাবা আসলে তার সামনেও মারপিট করে। পরে বাবা আমাকে উদ্ধার করে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আয়েশা বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একবারও স্বামী বা তার পরিবারের কেউ খোঁজ নেয়নি। স্বামীর কথা- তুই কেন মেয়ে সন্তান জন্ম দিলি?
কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছি, এটা কি শুধু আমার অপরাধ- প্রশ্ন করেন আয়েশা।

আয়েশার মা জিয়াসিমিন খাতুন বলেন, ভাল ছেলে ভেবে মেয়েকে সুখের জন্য বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে নানা কারণেই নির্যাতন শুরু করে। গর্ভবতী অবস্থায় অনেকবার সন্তান নষ্ট করতে চেয়েছিল। জন্মের পরও মেয়েটিকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে কয়েকবার। এ অবস্থায় কি করা উচিত আমার ভেবে পাচ্ছি না।

আয়েশার মামা সোনালী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার মাহবুব-উল-আলম বলেন, আয়েশাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বা হচ্ছে এটি কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। নারী সংগঠন ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের আয়েশার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান সাবেক এ ব্যাংক কর্মকর্তা।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জোতদার রাকিবুল হাসান জানান, ইনজুরি নেই, তবে কৌশলে বেদম প্রহার করা হয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

ads

লাইভ

টপ