• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

একজন চিকিৎসক নির্ভর কুয়াকাটা হাসপাতাল

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১১:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০১৬

কলাপাড়া: পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা হাসপাতালটির উদ্বোধনের পর থেকে চিকিৎসক সঙ্কটে রয়েছে। মাত্র একজন অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎক ও একজন ওয়ার্ড বয় দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম। পর্যটক ও উপকূলীয় এ অঞ্চলে গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকারে নিয়োজিত অধিকাংশ লোকের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র এ হাসপাতালটি। সরকার ২০০৭ সালে আধুনিক মানসম্মত কুয়াকাটা বিশ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি নির্মান কাজ শুরু করে।

প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন একর জমির ওপড় ২০১০ সালে এর কার্যক্রম অনুষ্ঠিকভাবে চালু হয়। শুরুতে ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ছিলো। বর্তমানে হাসপাতালটি আছে। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত সেব দেওয়ার জনবল। এর ফলে পর্যটকসহ এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালটিতে তিন ইউনিটের একটি আধুনিক দ্বিতল চিকিৎসা ভবন, সেবিকা ভবন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য দু’টি আবাসিক ভবন, ড্রাইভার কোয়াটারসহ রয়েছে আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত অপারেশন থিয়েটার, ল্যাব, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, সেবিকা কক্ষ, চিকিৎসক কক্ষ, পাম্প হাউজ। পর্যটক বিবেচনায় ভিআইপি কক্ষ রয়েছে। কিন্তু সবই পড়ে আছে ফাঁকা। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি হাসপাতাল।

স্থানীয় একাধিক লোকজনের অভিযোগ, কুয়াকাটা পৌরসভা ও লতাচাপলী ইউনিয়নের কচ্ছপখালী, নবীনপুর, পাঞ্জুপাড়া, পশ্চিম কুয়াকাটা, শরীফপুর, আজিমপুর, তুলাতলী, মেলাপাড়া, মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুরসহ আশেপাশের গ্রামে বসবাসরত মানুষ এখন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা না পেয়ে কষ্ট ভোগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অধিকাংশ চিকিৎসকই নিজেদের সুবিধার্থে এখান আসার পরপরই তদবির করে অনত্র বদলী হয়ে যান বলে আভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, এ হাসপাতালে মোট ২৩ টি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত একজন ডাক্তর, প্রধান সহকারি কাম হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারি কাম মুদ্রাক্ষরিক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, একজন ওয়ার্ডবয় ও ল্যাব এ্যাটেন্ডট ছাড়া বাকি সব পদ শূন্য রয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা মহিপুর গ্রামের আলী হোসেন জানন, আমাদের দূর্ভাগ্য, একজন ডাক্তার দিয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা সোবা দেয়া হচ্ছে। এখানে কমপক্ষে চার জন ডাক্তার থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। আপর এক রোগী মো.জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালটিতে সব আছে। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় মনে হচ্ছে আবার কিছুই নেই।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন এ হাসপাতালটি উদ্ভোধন করেন তখন সব ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলো। এর পর একে একে সবাই চলে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালের মধ্যে ময়লা আর্বজনায় ভরে গেছে। জরুরী ভিক্তিতে সব পদে লোক নিয়োগ দেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল মান্নান জানান, বর্তমানে হাসপাতালটিতে একজন অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ও একজন ওয়ার্ডবয় রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা তা অবগত করেছি।’

ads

লাইভ

টপ