• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

উজিরপুরে সহিংসতায় প্রার্থীসহ আহত ৫০

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট৬:৫০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০১৬

উজিরপুর: উজিরপুরে ব্যাপক সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ৭ ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত। নির্বাচনকে ঘিরে পাল্টা-পাল্টি হামলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী সহ ৫০ জন আহত হয়েছে।  অপরদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের এজেন্ট বের করে দেওয়া, জোর করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়া, প্রকাশ্যে নৌকা প্রতিকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগে ৭ ইউনিয়নে বিএনপির ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়ার্কাস পার্টির ১ জন, সতন্ত্র ২ জন সহ ১০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন।

 

উপজেলার হারতা ইউনিয়নে হাতুরি মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী বিমল চন্দ্র করাতীর নিজ সেন্টার জামবাড়ি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহনের আধা ঘন্টা পরে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ডাঃ হরেন রায় ১০ টি মটর সাইকেল নিয়ে ৩০/৪০ জন সমর্থক জামবাড়ী কেন্দ্রে ঢুকে চেয়াম্যাদের ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সীল দেওয়া শুরু করে। এ ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী হরেন রায়কে ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রেখে তার সাথে আসা ৫টি মটর সাইকেল গুরিয়ে দেয় এবং ৩টি ব্যালট বাক্স ভাংচুর করেন।

 

পরে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের ষ্টাইকিং ফোর্স নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেড ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে উদ্ধার করে। এ কারণে প্রিজাইডিং অফিসার দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস ওই কেন্দ্রটির নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করে এ সময় উভয় পক্ষের হামলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হরেন রায়, দুলাল মজুমদার(২৭), সুধাংশু রায়(৪৭), নরেশ বাড়ৈ(৩০), তাপস মল্লিক(৪০), মনোরঞ্জন মল্লিক(৪০), উত্তম ভাংরা(৪৫), বিমল বাড়ৈ(১৮), নির্মল বল্লভ(৪৫), হরেন মুড়ি(৪৫), ডাঃ আশুতোষ মল্লিক(৪০) আহত হয়। গুরুত্বর আহত মনোরঞ্জন মল্লিককে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া মধ্য কালবিলা কেন্দ্রে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। শোলক ইউনিয়নের কচুয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষে সোহাগ(৩২), মাহমুদা(২৮) আহত হয় ।

 

এ কারণে প্রিজাইডিং অফিসার আল-আমিন মিঞা সকাল ১০টায় কেন্দ্রটির ভোট গ্রহন বন্ধ ঘোষনা করেন কিন্তু ২ ঘন্টা পরে পূনরায় ঐ কেন্দ্রে ভোট গ্রহন শুরু করেন। বাবরখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১ টায় ২ মেম্বর প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে এতে হাতেম বেপারী, কামরুল বেপারী, শাওন হাওলাদার, সিদ্দিক হাওলাদার আহত হয়।  এ সময় পুলিশ নিয়ন্ত্রন করার জন্য ২ রাউন্ড ফাকা গুলি নিক্ষেপ করেন। বড়াকোঠা ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টায় ধানের শীষ ও নৌকা প্রতিক সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়ে।

 

বড়াকোঠার দরগাবাড়ী কেন্দ্রে আ’লীগের বিদ্রহী প্রার্থী শাহ-আলম হাওলাদা ও আ’লীগের প্রার্থী এ্যাড: শহিদুল ইসলাম এর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে এক পর্যায়ে শহিদুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় ৪টি মটর সাইকেল ভাংচুর করে। হামলায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি এনায়েত হোসেন গুরুতর আহত হয়। সাতলা রাজাপুর কেন্দ্রে ২ মেম্বর প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় মোঃ রিপন গুরুত্বর আহত হয়। জল্লা ইউনিয়নে গড়ই বাড়ী কেন্দ্রে আ’লীগের বিদ্রহী প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈর ছেলে অচিন্ত বাড়ৈ ও মেয়ে ডলিকে লাঞ্জিত করেন। উত্তর মুন্সির তাল্লুক কেন্দ্রে ঐ ২ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।  বিএনপির প্রার্থী শোলক ইউনিয়নের মশিউর রহমান মনির সকাল সাড়ে ১০ টায় ভোট বর্জনের ঘোষনা করেন।

 

ওটরার কামরুজ্জামান টুলু সকাল ১০ টায়, সাতলার মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ পৌনে ১০ টায়, বামরাইলের আব্দুল মতিন সরদার নান্টু বেলা ১২ টায়, জল্লার অধ্যাপক মিজানুর রহমান ১১ টায়, হারতায় মাও: সিদ্দিকুর রহমান সাড়ে ১১ টায়, আ’লীগের বিদ্রহী প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ সাড়ে ১১টায়, হারতায়  ওয়ার্কাস পার্টির বিমল চন্দ্র করাতী ১২ টায় নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা করেন। বিকেলে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ সময় উপজেলা চত্তরে সকল বর্জনকৃত প্রার্থীরা একযোগে সংবাদ ব্রিফিং এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা করেন। উপজেলা নির্বাচন অফিসার জসীম উদ্দিন জানান সংঘর্ষের কারণে জামবাড়ী কেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষনা করা হয়।

লাইভ

টপ