• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

ইয়াবা দিয়ে যুবককে গ্রেপ্তার: ডিবির এসআই’র বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১১:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৭

বরগুনায় ইয়াবা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে এক নিরীহ যুবককে গ্রেপ্তারের অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মা। ওই এসআইর নাম মো. আবু জাফর।

তিনি বরগুনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত রয়েছেন।

 

এসআই আবু জাফর সোমবার (১৯ জুন) সকালে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ (নম্বর ৪৫৯) দায়ের করেন সদর উপজেলার পশ্চিম হেউলিবুনিয়া গ্রামের মো. শাহ আলম সরদারের স্ত্রী হালিমা বেগম।

এ অভিযোগ আমলে নিয়ে তা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. জুলফিকার আলী খান।

মামলার বিবরণীসূত্রে জানা গেছে- বাদী হালিমা বেগমের জামাতা সদর উপজেলার নলী মাইঠা গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের সাথে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জের ধরে খলিলুর রহমানের যোগসাজশে শনিবার রাত ১০টার দিকে পশ্চিম হেউলিবুনিয়া গ্রামে হালিমা বেগমের বাড়ি থেকে তার ছেলে মুসা সরদারকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ধরে নিয়ে যান গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. আবু জাফর।

এসময় বরগুনার বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যাবসায়ীও এসআই আবু জাফরের সাথে ছিলেন। পরে তার ছেলে মুসা সরদারের কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে পরের দিন রোববার সকালে বরগুনা থানায় একটি মামলা (জিআর ৩৫৯) দায়ের করে গোয়েন্দা পুলিশ।’

এ বিষয়ে বাদী হালিমা বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান- তার ছেলে শামীম হোসেন মুসা সরদার (২৭) ইয়াবা তো দূরের কথা কোনওদিন ধুমপানও করেনি। সে বরগুনা হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ থেকে চার বছরের ডিএইচএমএস কোর্স শেষ করে বর্তমানে ইন্টার্নি করছে।

সে বরগুনার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে কারও কোনও অভিযোগও নেই।

হালিমা বেগম আরও জানান- শনিবার রাত ১০ টার সময় তারা যখন ঘুমোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক তখন তাদের ঘরে তার জামাতা খলিলুর রহমান ও তার সহযোগী রাজু ওরফে টায়ার রাজু এবং জিসানসহ সহ পাঁচ ছয়জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রবেশ করে।

এসময় তারা তার ছেলে মুসা সরদারকে হাতকড়া লাগিয়ে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ঘরের বাইরে যেতে চাইলে তিনিসহ (হালিমা বেগম) তার দুই মেয়ে মরিয়ম (১৬) ও সাথী (২৬) তাদের বাঁধা দিলে তারা তাদের ওপরও হামলা চালায়।

এসময় গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবুজাফরও তাদের ঘরে প্রবেশ করে হামলাকারীদের সাথে যোগ দেয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে এসআই আবু জাফর তার দুই মেয়ে সাথী ও মরিয়মের উপরও হামলা চালিয়ে তাদের আহত করেন বলে জানান ভুক্তভোগী মা হালিমা বেগম।

এ বিষয়ে বরগুনা হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মো. আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শামীম হোসেন মুসা সরদার তার কলেজ থেকে চার বছরের ডিএইচএমএস কোর্স শেষ করে বর্তমানে ইন্টার্নি করছে।

মুসাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। সে বরগুনার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে কারও কোনও অভিযোগও নেই। ইয়াবা তো দূরের কথা মুসা ধুমপানও করে না বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মো. আবু জাফর বলেন, ঘটনার দিন তার কয়েকজন দু’জন সোর্স এবং ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য মুসাকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে কেউ আহত হতে পারে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বরগুনার গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।’’

লাইভ

টপ