• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

আমরা কোন রক্ত চক্ষুকে ভয় পাই না॥ লিটন বাশার

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট১১:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০১৬

গত পহেলা মে শ্রমিক লীগ আয়োজিত র‌্যালীর ছবি তুলতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক দখিনের মুখের আলোকচিত্রী সুমন হাসান। এ নিয়ে গতকাল দৈনিক দখিনের মুখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে রক্ত চক্ষু তাড়া করছে নগরীকে। শান্তির জনপদ বরিশালকে কোন উদ্দেশ্যে কারা অশান্ত করার পায়তারা চালাচ্ছে তার একটি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে প্রকাশিত খবরে। আমরা দখিনের মুখ প্রকাশের শুরুতেই বলেছিলাম ‘ দৈনিক দখিনের মুখ’ কোন রক্ত চক্ষুকে ভয় পায় না।

 

আজ আবারো আমাদের রুটি রুজীর দিব্যি দিয়েই বলছি সত্যি আমরা কোন রক্ত চক্ষুকে ভয় করি না। সে যত বড় ক্ষমতার সিংহশনে বসেই দিবা স্বপ্ন দেখুক না কেন। কারন এটা আমাদের রুটি রুজির বিষয়। এখানকার ঝড়া পাতাটিও আমাদের পরম পূজনীয়। লক্ষ টাকার মকমলের জুতায় তা যদি কেউ মারিয়ে যায় তাকে আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। আর ভিন্ন কোন ঘটনার শিকার হলে তা মেনে নেওয়া যায় কিন্ত পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন হামলা আমরা মেনে নিতে পারি না।

 
হামলাকারী সন্ত্রাসীরা শুনেছি রাজনৈতিক পরিচয়ে চলাফেরা করে। দু:খের বিষয় হলো অভিজ্ঞতা বলছে আমাদের রাজনীতি আর রাজনীতির মাঝে নেই। তাই এই সব আগাছা পরগাছারাও এখন শাসক দলের মিছিলের শোভাবর্ধনে সামিল হয়। নিরহ সাংবাদিক পথচারীকে মেরে রাজনৈতিক দলের গায়ে কলংকের তিলক একে দেন। এ সব ছিচকে সন্ত্রাসীরা কি করে রাজপথে একজন সংবাদকর্মীকে মারধরের সাহস পায়। সত্যি বলতে আমাদের সাংবাদিকতা আজ ঐতিহ্য হারিয়েছে। সংবাদপত্রের কণ্ঠস্বর আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত। শকুন বাসা বেধেছে গণমাধ্যমের রন্দ্রে রন্দ্রে।

 

আমি কাঙালের মত গত এক যুগ ধরে এই নগরীর পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছি কিন্ত সাংবাদিকতার পথিকৃৎ খুঁজে বেড়িয়েছি । কিন্ত কোথাও একজন মাইনুল হাসান কিংবা শওকত মিল্টনের দেখা পেলাম না। বরং দেখলাম রাজনীতি যেভাবে অরাজনৈতিক ব্যবসায়ী কিংবা আমলাদের নিয়ন্ত্রনে চলে গেছে আর তার লেজুড় বৃত্তি করছে কতিপয় বস্তির উঠতি মাস্তান সন্ত্রাসী। ঠিক তেমনি সাংবাদিকতার বেহালদশা। তাই এখন এত মানুষের মুখের ভিতর সত্যিকারের খাটি মানুষের মুখটি খুঁজে বেড়াই। কিন্ত আমার মতই বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে যে কুকুর দিনে ঘুমিয়ে থাকে সে রাতে এসে কানে কানে বলে যায় ‘ আমি কুকুর হয়ে মানুষের পায়ের কাছে বসে থাকি, তার ভিতরের কুকুরটাকে দেখবো বলো’।

 

কুকুরের কন্ঠে কবিতার ছন্দ শুনে আমার মনে পড়ে যায় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পন্থি , ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালবাসিলাম সে কখনও করে না বঞ্চনা’। রাজনীতির মধ্যে আমি রাজনীতি খুঁজে পাই না। সাংবাদিকতার মাঝে পথিকৃৎ খুজিয়া পাই না। দখিনের মাঠে-ময়দানে, প্রত্যন্ত জনপদ চষে বেড়ালেও হাজারো মানুষের ভিরে একজন সত্যিকারের খাটি মানুষ কেন খুজে পাই না। এ কি আমার দীনতা, নাকি রাষ্ট্রের? নাকি প্রয়াত লেখক হুমায়ন আজাদের আশংকার কথা সত্য হতে চলছে ‘ সবকিছুই হারিয়ে যাচ্ছে নষ্টদের মাঝে, একদিন কি সবকিছু চলে যাবে নষ্টদের দখলে। মানুষের বিবেক কি জাগ্রত হবে না আর কখনো ! নাকি নীতি হীন ঘুমন্ত মানুষের ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে সবকিছু অক্টোপাসের মত গিলে খাবে আমাদের দূর্নীতির রাজপুত্র আর বরপুত্ররা মিলে! তাও বুঝি না!

 
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন:‘মহাকাব্যের যুগ অতীত হইয়া গিয়াছে’। আমার ক্রন্দন হয়, আমার বেদনা হয়, আমার দহন হয়। আমি অতি সাধারণ ঘরে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসাবে নিজেকে নিজের মুখোমুখি দাড় করাই। স্মৃতির পর্দায় ভেসে উঠে সেই দৈনিক শাহনামা, আজকের বার্তা, আজকের পরিবর্তন, বরিশাল প্রতিদিন, দৈনিক ভোরের আলো ও দৈনিক দখিনের মুখ। কোথায় ছিলাম! কোথায় আছি! কোথায় যাচ্ছি! মানব কল্যাণের জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক সম্প্রীতির যে সংস্কৃতির ধারায় আমাদের পথচলা শুরু হয়েছিল তা আজ গাঙ্গেয় অববাহিকার বিভাগীয় সদর দপ্তর বরিশাল থেকে কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে।

 

তবুও আমরা হতাশ নই। আমরা সমাজ বিরোধী অসভ্য কোন বর্বরতাকে মেনে নিতে পারছি না। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়;- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে—’ আমরা একা চলতেই প্রস্তুতি নিয়ে রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে যে শ্লোগান নিয়ে পথচলা শুরু করেছি তা নিরন্তর গতিতেই অব্যাহত। হয়তো এ পথ চলা কোন দীর্ঘ ইতিহাসের নয়। তবুও বলছি আমাদের পথচলা কেবল শুরু হলেও এতে কোন পিছু টান নেই। আমরা রক্ত চক্ষুকে ভয় করি না। প্রতিবাদের ভাষা আর আইনের মাধ্যমেই তাকে মোকাবেলা করবো। আল্লাহ যদি সেই তওফিক দান করুন এ টুকু দোয়া পাঠকের কাছে তথা শান্তি প্রিয় বরিশালবাসীর কাছে।

লাইভ

টপ